Advertisement
E-Paper

হাফলঙে অতিথিশালা ফেরাল সেনা

দু’দশক পর হাফলং শহরে পর্যটন বিভাগের অতিথিনিবাস হস্তান্তর করল সেনাবাহিনী। আজ তা তুলে দেওয়া হল উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধীনে থাকা পর্যটন বিভাগের হাতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:২১
পর্যটন অতিথিশালায় চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান। হাফলঙে। ছবি: বিপ্লব দেব

পর্যটন অতিথিশালায় চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠান। হাফলঙে। ছবি: বিপ্লব দেব

দু’দশক পর হাফলং শহরে পর্যটন বিভাগের অতিথিনিবাস হস্তান্তর করল সেনাবাহিনী। আজ তা তুলে দেওয়া হল উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের অধীনে থাকা পর্যটন বিভাগের হাতে।

ডিমা হাসাও জেলায় এক সময় জঙ্গিসমস্যা প্রকট ছিল। নিয়মিত খুন, অপহরণ, তোলাবাজিতে নাজেহাল ছিলেন সাধারণ মানুষ। জঙ্গি-দমনে জেলায় সেনা পাঠানো হয়। বিভিন্ন সরকারি আবাসন হয় সেনাশিবির। হাফলং শহরের সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসন, পর্যটন বিভাগ ও পার্বত্য পরিষদের অতিথিশালা চলে যায় সেনাবাহিনীর হাতে। ১৯৯৫ সালের ২ মে পর্যটন বিভাগের অতিথিনিবাস সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয় প্রশাসন। ২১ বছর ধরে তা সেনাবাহিনীর দখলে ছিল।

আজ ৪৩ আসাম রাইফেলসের কর্তারা ওই অতিথিনিবাস আনুষ্ঠানিক ভাবে পার্বত্য পরিষদকে ফিরিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর ২২ সেক্টরের ব্রিগেডিয়ার পরিমল পন্থ ওই অতিথিশালার চাবি তুলে দেন পর্যটন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইএম কুলেন্দ্র দাওলাগোপুর হাতে।

আগেই হাফলং সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ের আবাসন ও পার্বত্য পরিষদের অতিথিশালা খালি করে দিয়েছিল সেনাবাহিনী।

২১ বছর পর পর্যটন বিভাগের অতিথিশালা ফিরে পেতে ইএম কুলেন্দ্র দাওলাগাপু মুখ্য ভুমিকা নিয়েছিলেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তিনিই সেনাবাহিনীর ২২ সেক্টরের ব্রিগেডিয়ার সঞ্জয় বিশ্বাস রাওয়ের সঙ্গে এ নিয়ে প্রথম কথা বলেন। তাঁর বদলির পর পরিমল পন্থ ব্রিগেডিয়ারের দায়িত্ব নেন। তাঁর দায়িত্বগ্রহণের এক মাসের মধ্যেই পাহাড়ি জেলায় পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ওই অতিথিশালা খালি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেনাবাহিনী।

কুলেন্দ্র দাওলাগোপু জানান, ডিমা হাসাও জেলাকে অসমের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উত্তর কাছাড় পার্বত্য পরিষদ চেষ্টা চালাচ্ছে। হাফলং শহরে পর্যটকদের থাকার জন্য তিনটি ভাল হোটেল ছাড়া কিছু নেই। পর্যটন বিভাগের অতিথিশালাকে সাজিয়ে তুলে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। কুলেন্দ্রবাবু জানান, সেখানে থাকবে জাদুঘর, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র।

তিনি জানান, ১৫-১৬ ডিসেম্বর হাফলং শহরে জু-ডিমা উৎসব হবে। জেলার পর্যটনস্থলগুলিকে সাজিয়ে তুলতে ‘সোচ’ প্রকল্পশুরু করা হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার পরিমল পন্থ বলেন, ‘‘পাহাড়ে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুধু সরকার বা পার্বত্য পরিষদের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। জেলার বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’’ এ দিনের অনুষ্ঠানে সামিল ছিলেন পার্বত্য পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগের ইএম স্যামুয়েল চাংসন, ৪৩ আসাম রাইফেলসের কর্নেল গগন পাণ্ডে, পর্যটন অফিসার নরমেন্দু কেম্প্রাই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy