থাইরয়েডের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এই অসুখের সঙ্গে পরিচিত কমবেশি সকলেই। থাইরয়েড একটি গ্রন্থি, যা থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, বিপাকক্রিয়া, শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, বুদ্ধির বিকাশ, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, সন্তানধারণ। কোনও কারণে এই হরমোন বেড়ে গেলে বা কমে গেলে থাইরয়েডের সমস্যা হয়। ক্লান্তি, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া, অনিয়মিত ঋতুস্রাব এমন অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই অসুখের কোনও বয়স থাকে না। এক বার যদি হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায়, ওষুধ তো বটেই, জীবনযাপনেও বদল দরকার হয়। খাবারেও নিয়ন্ত্রণ আসে।
সকালে উঠে একটি পানীয়ে চুমুক দিতে পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব থাইরয়েডের সমস্যা। এর জন্য চাই কালোজিরে। রোজ সকালে ঈষদুষ্ণ গরম জলে আধ চা চামচ কালোজিরের গুঁড়ো গরম জলে মিশিয়ে খেলে থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। কালোজিরের বীজে থাইমোকুইনোন নামক একটি শক্তিশালী বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ থাকে। এই যৌগে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং অ্যান্টি-ইমফ্লামেটরি গুণ রয়েছে ভরপুর মাত্রায়। এই যৌগটি থাইরয়েড গ্রন্থিগুলির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
শুধু থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখাই নয়, জেনে নিন, কালোজিরের পানীয়ে চুমুক দিলে আরও কী কী লাভ হবে শরীরের।
১) চুলের যত্নে কালোজিরের তেল অত্যন্ত কার্যকরী, যা নতুন চুল গজাতে, খুশকি কমাতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালশিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়াম চুলের ফলিকল শক্তিশালী করে। অকালপক্বতা রোধেও এটি সাহায্য করে।
২) মরসুম বদলের সময় এখন ঘরে ঘরে নানা অসুখে ভুগছেন মানুষ। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রেও কালোজিরের এই পানীয় বেশ উপকারী। তাই জ্বর, সর্দি, কাশি এড়িয়ে চলতে চাইলে সকালে খালি পেটে কালোজিরের গুঁড়ো মেশানো গরম জল খাওয়া যেতেই পারে।
৩) কালোজিরে খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি বিপাকহার বৃদ্ধিতেও সহায়ক। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও এই পানীয়ে চুমুক দেওয়া যেতে পারে।