ভাত-ডাল-আলুভাজা-তরকারি-মাছ-দই-চাটনি। বাঙালি বাড়ির দুপুরের মেনুতে কমবেশি এই খাবারই থাকে। কিন্তু এই খাবারটাই যদি রোজ খেতে হয়? রোজ মানে, প্রত্যেক দিন। হুবহু একই খাবার। কোনও পরিবর্তন নেই। এমনকি ডাল-তরকারিটাও একই। প্রাতরাশে রোজ ওট্স, কিংবা রোজ রাতে স্যুপ। অনেকেই দিনের খাবারে কোনও রকম পরিবর্তন আনতে চান না।
সপ্তাহখানেক একই খাবার খেতে হলে নিশ্চয়ই যে কেউ খুব বিরক্ত হবেন। যতই সুস্বাদু কিছু দেওয়া হোক না, এক সময়ে চাইবেন স্বাদ বদলাতে। কিন্তু সকলে তা চান না। যেমন ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম। তিনি মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ একই খাবার খেয়ে যান। আর সেটাই নাকি তাঁর নির্মেদ স্বাস্থ্যের রহস্য। অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি টানা ছ’মাস একই খাবার খেয়ে থাকতে পারেন, এতে তাঁর কোনও সমস্যা হয় না। কিন্তু একই খাবার রোজ খাওয়া কি ঠিক?
পরিপাকতন্ত্রের ভিতরে বাস করে ‘গাট মাইক্রোবায়োম’, যা ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীবের এক বিরাট সম্প্রদায়। প্রত্যেক ধরনের অণুজীবের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের জ্বালানির প্রয়োজন হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, মানুষের গাট মাইক্রোবায়োম, যা কোটি কোটি ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক এবং অণুজীবের একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র, তা খাদ্যের বৈচিত্রের উপর নির্ভরশীল। যখন একই খাবার ঘন ঘন ফিরে আসে, তখন অন্ত্র অনেক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। এক উদ্ভিদ থেকে অন্য উদ্ভিদে ফাইবারের ধরন বদলে যায়। একই ভাবে পলিফেনলের মতো প্রাকৃতিক যৌগগুলিরও পরিবর্তন ঘটে। যখন এগুলির অভাব হয়, তখন কিছু উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করে, আর অন্যগুলি প্রাধান্য পায়। ফলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হতে শুরু করে। পেট ফাঁপা আর কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পেটের নানা সমস্যা বেড়ে যায়।
হয়তো আপনি রোজের খাবার হিসাবে এমন কিছু বেছে নিয়েছেন, যাতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ওজন কমলেও, সেই খাবার মাসের পর মাস খেয়ে গেলে হজম ঠিকঠাক হবে না, তাই ওজন উল্টে বাড়তে শুরু করবে।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, তা হলে অনুষ্কা কিংবা ভিক্টোরিয়া কী ভাবে, তাঁদের ওজন ধরে রেখেছেন। আসলে তাঁরা ওজন ধরে রাখতে শুধুমাত্র ডায়েটের উপর নির্ভর করেন না। ছিপছিপে চেহারা ধরে রাখতে তাঁরা নিয়ম করে শরীরচর্চাও করেন। আর শরীরচর্চা করলে হজমশক্তি ভাল হবেই। তাই রোজ তাঁরা তাঁদের ‘কমফর্ট ফুড’ খেয়েও ছিপছিপে থাকতে পারেন।