Advertisement
E-Paper

রক্ষেকালীর সমুদ্র-দর্শন

মুম্বই শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সমুদ্র। উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণের শেষ প্রান্ত অবধি অজস্র সমুদ্র সৈকত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গোটা পশ্চিম দিকে। পূবের অসংখ্য আকাশচুম্বি অট্টালিকার আড়াল থেকে উঠে এসে সূর্যদেব তাঁর আকাশ পাড়ি দিয়ে ঘরে ফেরেন। ঘর বুঝি তাঁর অতল সমুদ্রের কোলে। বিস্তীর্ণ বেলাভূমিতে কখনও ‘ধীরে বহে সমীরণ’, কখনও এলোমেলো বাতাসের ঝাপটায় শুকনো বালুকণাদের উড়ে উড়ে খেলা। কখনও বিস্তীর্ণ তটে ঢেউ আছড়ে পড়ে। কখনও বা ভ্রমণেচ্ছু মানুষ জন বসে থাকে, হাঁটে, শিশুদের লুটোপুটি চলে। যে কোনও উৎসব, প্রতিমা-পূজোয় এই আরব সাগরের যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। বিহারীদের ‘ছট’ পুজো থেকে বেশির ভাগ পুজোরই পরিসমাপ্তি বলতে গেলে, এই মহাসাগরের কোলে। একদিকে যেমন, এই মনতাজের শহরের তাবৎ নর্মদার পরিসমাপ্তি এই সাগরের জলে— যত মলমূত্রকলুষ বা সব রকম আবর্জনা খালাস করার ঠাঁই-ই হচ্ছে সমুদ্র। তেমনই এই সাগরের অনন্ত বিশালতাই যেন একে শ্রদ্ধেয়, প্রণম্য করে মানুষের কাছে। জলে স্নান করে বা শুধু আঁজলা জল মাথায় ছিটিয়ে নিজেকে পবিত্র মনে করে। লিখছেন মিলন মুখোপাধ্যায়।মুম্বই শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সমুদ্র। উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণের শেষ প্রান্ত অবধি অজস্র সমুদ্র সৈকত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গোটা পশ্চিম দিকে। পূবের অসংখ্য আকাশচুম্বি অট্টালিকার আড়াল থেকে উঠে এসে সূর্যদেব তাঁর আকাশ পাড়ি দিয়ে ঘরে ফেরেন। ঘর বুঝি তাঁর অতল সমুদ্রের কোলে। বিস্তীর্ণ বেলাভূমিতে কখনও ‘ধীরে বহে সমীরণ’, কখনও এলোমেলো বাতাসের ঝাপটায় শুকনো বালুকণাদের উড়ে উড়ে খেলা। কখনও বিস্তীর্ণ তটে ঢেউ আছড়ে পড়ে। কখনও বা ভ্রমণেচ্ছু মানুষ জন বসে থাকে, হাঁটে, শিশুদের লুটোপুটি চলে। যে কোনও উৎসব, প্রতিমা-পূজোয় এই আরব সাগরের যথেষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে। বিহারীদের ‘ছট’ পুজো থেকে বেশির ভাগ পুজোরই পরিসমাপ্তি বলতে গেলে, এই মহাসাগরের কোলে। একদিকে যেমন, এই মনতাজের শহরের তাবৎ নর্মদার পরিসমাপ্তি এই সাগরের জলে— যত মলমূত্রকলুষ বা সব রকম আবর্জনা খালাস করার ঠাঁই-ই হচ্ছে সমুদ্র। তেমনই এই সাগরের অনন্ত বিশালতাই যেন একে শ্রদ্ধেয়, প্রণম্য করে মানুষের কাছে।

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:২২

প্রথম প্রথম রক্ষেকালী যখন এ রাজ্যে এসেছিল, ওকে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলুম। জিজ্ঞেস করেছিলুম, ‘‘তোমাকে মুম্বই দর্শনে নিয়ে যাব। কোথায় যেতে চাও?’’ ‘‘কোথায় কী আছে, তা আমি জানব কী করে দাদাবাবু?!

ঠিকই বলেছে। আন্দাজে ঢিল ছুঁড়েছি, কাছের কোনও মন্দিরে যাবে?’’

হ্যাঁ হ্যাঁ। খুব ভাল। আর হ্যাঁ! আমায় এট্টু সমুদ্দুর দ্যাখাবে? শুনেছি বোম্বাইতে খুব বড় বড় সাগর আছে, ঢেউ আছে—এট্টু জল ছুঁয়ে মাথায় ঠ্যাকাবো—’’সেই ওকে নিয়ে গিয়েছিলুম বাড়ির কাছাকাছি জুহুতে ইস্কনের ‘হরেকৃষ্ণ মন্দিরে আর জুহু বিচে’। সমুদ্রের এবং উন্মুক্ত আকাশের বিশালতা দেখে ও প্রথমে তো একেবারেই হতবাক। তার পর, ধীরে ধীরে ওর বিহ্বলতা কেটে গেল। এবং ক্রমশ দিশেহারা দশা কাটিয়ে নিজেকে যেন উন্মুক্ত করে দিল। সব্বার আগে প্রায় পঞ্চাশ ছোঁয়া বয়েসে রক্ষেকালী প্রায় বালিকা বা উচ্ছ্বল কিশোরীর মতোন শুকনো বালি উড়িয়ে দৌড়াল ঢেউয়ের দিকে। ভেজা বালির ওপর পদচিহ্ন গেঁথে গেঁথে জল ছুঁয়ে নিজের মাছায় ছেটাল। ফিরে আমার দিকে হাত নেড়ে কী যেন বলল—বাতাসের ঝাপটায় সে কথা হারিয়ে গেল বাতাসেই। হাঁটু অবধি পরনের শাড়ি তুলে, তাও ভিজে গেল ঢেউয়ের নাচের সঙ্গে সঙ্গে। কী খুশি! কী খুশি!

হাবরা কামারথুবার সেই মাঝবয়েসি মহিলার সরল উচ্ছ্বলতা সে দিন আবার মনে পড়ে গেল মেরিন ড্রাইভের কাছে সমুদ্র তীরে।

কলকাতার প্রেস ক্লাব যেমন ময়দানের গায়ে মুম্বইয়ের প্রেস ক্লাবও এক্কেবারে ‘আজাদ’ ময়দানের গা ঘেঁষে। শহরে প্রধান দুটি উন্মুক্ত ময়দান রয়েছে এই আজাদ ছাড়া ‘শিবাজী পার্ক’। দু’টিই বিশাল জনসমাবেশ তথা রাজনৈতিক দলদের সভাসমিতি ও মোর্চা মিটিংয়ের জন্যে অতি প্রশস্ত ঠাঁই। তবে এই দ্বিতীয়টি যেহেতু প্রধানত খেলাধুলোর জন্যে নির্ধারিত তাই অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে তবে এখানে মিটিং করবার অনুমতি মেলে। সারা বছরে স্রেফ চার-পাঁচটি সমাবেশ হয়। তাই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন দল তাদের সভা ইত্যাদির আয়োজন করে থাকে এখানেই। ‘ভাজপা’ বা বিজেপি-র বিপুল জনসমাবেশ ছিল। প্রেস ক্লাব থেকে বেরিয়ে দুপুরে গেলুম মেরিন ড্রাইভের কাছে। সমুদ্র সৈকতে। যার জন্যে প্রতীক্ষা করছিলুম সে এসে পৌঁছয়নি। ফলে ছাউনির নীচে বসে পড়েছি। ভাঁড় এ রাজ্যে নেই। প্ল্যাস্টিকের ছোট কাপে চা নিলুম। আরও কয়েক জন বালিতে হাঁটু মুড়ে পরিতৃপ্তি সহকারে চা খাচ্ছে। ‘উশ-শ’ শব্দ তুলে চোখ প্রায় বুজে এসেছে আরামে। পুরুষ-মহিলা মিলিয়ে সাত-আট জন। দেখে শুনে কাউকেই মুম্বইনিবাসী মনে হল না। পরস্পর যখন কথা বলছে তাদের ঝুলিতে গ্রাম্য সুর। পোশাকেও ‘দেহাতি’ ভাব। মাথায় পেঁচানো পাগড়ি, আধময়লা খাটো ধুতি হাঁটুর ওপরে তোলা। তার ওপরে ততোধিক ময়লা পাঞ্জাবি বা জামা হাফ হাতা। রংচঙে শাড়ি পরা তিন জন মহিলা। বিভিন্ন বয়েসের। গলায় তাবিচ, হাতে রূপো বা কাঁচের চুড়ি। নাকে নোলক বা নথ। ও হ্যাঁ সকলেই শাড়ি পরেছে কাছা দিয়ে। দেখে শুনে যে কেউ বুঝবে এঁরা একেবারে দেহাতি বা মহারাষ্ট্রের কোনও গ্রামের বাসিন্দা।

দীর্ঘ শহরের এক ধার জুড়ে আরব সাগর বলেই যেখানে যেখানে প্রশস্ত বেলাভূম হয়েছে তাদের মরাঠিতে বলে ‘চৌপাটি’। ভারসোবা-জুহু মাহিম বান্দ্রা থেকে নিয়ে শহরের শেষ দক্ষিণ প্রান্তের এই গিরগাঁও বা মেরিন ড্রাইভ চৌপাটি। শুধু এই সাত-আট জনই নয়। সমুদ্রের জলের দিকে চেয়ে দেখি বেশ বড়-সড় দল। আরও জনা চল্লিশেক চৌপাটিতে বালির ওপরে, জলে ও জলের কিনারায় সবাই বেশ ফূর্তিতে ঘোরা-ফেরা করছে, শিশুর মতো লাফাচ্ছে, ছুটোছুটি করছে, খেলছে। এমনকী বালি ঘেঁটে টিলা বা পাহাড় জাতীয় কিছু বানাবার চেষ্টা করছে। বেশ ক’জন পাগড়ি-ধুতি-জামা খুলে শুকনো বালিতে রেখে নেমে পড়েছে কোমর জলে। পরনে হয়তো আন্ডারওয়ার বা নেংটি রয়েছে। এদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, পরস্পরকে লক্ষ করে বালি বা জল ছেটানো দেখে রক্ষেকালীর কথা মনে পড়ল। চা খেতে খেতে খবর নিলুম। বোঝা গেল সকালবেলা আজাদ ময়দানের বিশাল জনসমাবেশেরই এঁরাও কয়েক জন। রাজ্যের মাফিয়া হঠাও আন্দোলনের ডাকে হাজার হাজার লোক জমা হয়েছে। বা জমায়েতের বন্দোবস্ত করেছে ‘ভাজপা’ দল। মঞ্চে বক্তৃতা চলছে নেতাদের। শ্রোতাদের বেশ বড়সড় সংখ্যাকেই নিয়ে আসা হয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে, মাগনা বা নিখরচায় ‘মুম্বই দর্শনের’ লোভ দেখিয়ে। ময়দানের মাইকে চলছে জ্বালাময়ী ভাষণ—দুর্নীতি নিয়ে বিষাক্ত দুধ সরবরাহ, জ্বালানি তেলের মাফিয়া ইত্যাদি নিয়ে মাফিয়া হঠাও, মহারাষ্ট্র বাঁচাও স্লোগান সমেত। অজস্র শ্রোতারা সে সব গ্রাহ্যের মধ্যে না এনে মুম্বইয়ের কোন কোন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া হবে তারই ফর্দ তৈরি করছিল দল বেঁধে। লরি এবং বাস বোঝাই করে গ্রাম থেকে এসেছেন এঁরা—নানান দলে বিভক্ত হয়ে।

যাদের সঙ্গে চা খাচ্ছি তাদের ভ্রমণ তালিকা বেশ বিস্তৃত। গিরগাঁও চৌপাটি থেকে বাইকোলা চিড়িয়াখানা, অমিতাভ বচ্চনের বাংলোর থেকে নিয়ে জুহু চৌপাটি। যেন গ্রামবাসীদের শহর-ভ্রমণ ও বনভোজন। শহরের এক ধারে যে সময় নেতারা বাতাসে ঘুষি মেরে চেঁচাচ্ছেন ‘‘মাফিয়া হঠাও, মহারাষ্ট্র বাঁচাও!’’ অন্য ধারে সেই একই সময়ে এই ‘তথাকথিত শ্রোতারা’ (?) চৌপটিতে উবু হয়ে বসে চা খাচ্ছেন বা বাইকোলার চিড়িয়াখানার হনুমানদের সঙ্গে খেলাচ্ছলে ভাগ করে খাচ্ছেন চিনেবাদাম।

যাঁদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছি তাঁরা এসেছেন জলগাঁও বুলদানা থেকে। জ্ঞান সিং, ভবন সিং, ইন্দার সিং তথা লালসিং এঁরা সব চাষি নিজেদের বা অন্যদের। ভবন সিং বললেন, ‘‘গত পরশু বড়দা লালসিং বললে চল মুম্বই ঘুরে আসি। আমরা এক কথায় রাজি।

আজাদ ময়দানে কী হচ্ছে, না হচ্ছে তা এঁরা জানেনই না, জানার গরজও তেমন নেই। ইন্দর সিং উত্তেজিত গলায় বললেন, ‘‘আমরা ভোরবেলা বাসে চড়েছি, শহরে এসে পৌঁছেছি ১১টা নাগাদ। আমাদের ব্যাজ, জল আর খাবারের প্যাকেট সংগ্রহ করেছি, লাইনে দাঁড়িয়ে এবং তারপর সোজা চলে গেছি ‘গেটওয়ে’ দেখতে। ভবন সিং তখন গিরগাঁও চৌপাটির জলে কোমর ডুবিয়ে বললেন, রীতিমতোন ঠিক বালকের উত্তেজনায়, ‘‘জীবনে আমরা লম্বা-উঁচু দালানই দেখিনি—এখানে দেখে মনে হয় যেন আকাশ ফুটো করে দেবে। আর এই দরিয়ার তো জবাবই নেই—আজীবন ভাবতুম, কেমন দেখতে সমুদ্দুর? এ যেন আমার সারা জীবনের স্বপ্ন সত্যি হল।’’

যখন জিজ্ঞেস করলুম নেতারা কী বলছিলেন, তখন সিং গোষ্ঠী এ-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। বললেন, ও সব ব্যাপার স্যাপার কী, কে জানে! আমাদের অ়ঞ্চলের এক রাজনৈতিক পাণ্ডা রাজেন্দ্র গাঁধী জানিয়েছেন—মুম্বইতে নাকি খুব মজার বেড়ানো হবে—ব্যস আর জেনে কী হবে। কোন সভাসমিতিতে, কীসের জন্যে সে সব জানি না—পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছিলুম, উক্ত নেতাটি জলগাঁও জেলার তালিকা প্রধান নাগপুর জেলার ‘কলোনি’ ও ‘দাওয়া’ গ্রাম থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই মহিলা ও জেষ্ঠ্য নাগরিক। ষাট উত্তীর্ণ কমলা চৌবে বললেন, ‘‘আমার সারা জীবনের আকাঙ্ক্ষা ছিল মুম্বই দেখার। সংসারের কেউই সে আশা পূরণ করেনি। যেই শুনলাম পড়শিরা সব বেড়াতে যাচ্ছে মুম্বই। কোনও খরচা নেই, খাওয়া মগনা, তখন আমিও জুটে গেলাম দলে।’’ বাচ্চা মেয়ের মতো খুশির হাসি সমেত কমলা বলেন, ‘‘এ্যাত্তো দামি-নামী শহরে একেব্বারে নিখরচায় বেড়ানো উফ! ভাবাই যায় না।’’ নাকের নোলক দুলিয়ে খিলখিলিয়ে হাসলেন মহিলা। সামনের দাঁতবিহীন বালিরেখা অধ্যুষিত মুখে আশ্চর্য সরল উজ্জ্বলতা। এমনি সব অনেকগুলি দল এসেছেন বিভিন্ন অ়ঞ্চল থেকে। জন সমাবেশকে ‘বিপুল’ করতে। যাতে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের জনপ্রিয়তার বহর নিয়ে বড়াই করতে পারেন। যাঁদের কোনও ধারণাই নেই কীসের পার্টি, কেন জনসভা, সরকার কাকে বলে? বিরোধী দল বলতে কাদের বোঝায়? সেই সব সরল, শহুরে সভ্যতা সম্পর্কে নিতান্তই অজ্ঞ, তাঁদের শহর ভ্রমণের লোভ দেখিয়ে, গরু-ছাগলের মতো বাস-লরি বোঝাই করে ময়দানে এনে উপস্থিত করা পর্যন্তই উক্ত গোষ্ঠীর নিম্নপদস্থ কর্মচারী বা ক্যাডারদের কাজ। গণতন্ত্রের বিশেষত দেশজ গণতন্ত্রের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলার মত জ্ঞান এই লেখকের নেই। শুধু প্রশ্ন জাগে কোথায় বাঁধছে গোল? ভুল হচ্ছে কী কোথাও? না কি গণতন্ত্রের এই-ই পথ? যদি ভুল মনে হয় তা হলেই ভুল কার বা কাদের? দলের না দলপতিদের? সেনাপতি, নাকি ক্যাডারদের? রাজার না প্রজার?

এই সব তর্ক-বিতর্কে না গিয়ে গ্রামবাসী তথা গ্রাম প্রসঙ্গে এবং তার শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একটি অবাক করা খবর পাওয়া গেল। গুরুগম্ভীর বিষয়ের কচকচিতে না গিয়ে বরং সেই খবরটি জানাই।

গ্রাম ছেড়ে বহু লোক শহরে বসবাস করছেন। যেমন ভারতের কলকাতা, মুম্বই, দিল্লিতে। তেমনই জার্মানির বার্লিনে। ছেড়ে আসা গ্রামের কথা তাদের মনে পড়তেই পারে। মন খারাপও হতেই পারে। তাদের দুঃখ ভোলার মোক্ষম দাওয়াই বেরিয়েছে ইউরোপে। পাঁচ পাউন্ডের একটি কৌটো পাওয়া যাবে। কিনুন, ঘরে রাখুন। যখনই গ্রামের কথা মনে পড়বে, ম্লান দুঃখ হবে গ্রামের জন্যে —সে দুঃখ ভোলার দাওয়াই থাকছে বন্ধ কৌটোয়। ঢাকনা খুলুন। খুলে তার ভেতরকার ঘ্রাণ নিন আহ, কী ভাল।

কী আছে কৌটোর মধ্যে? না অতি পুরোনো জীর্ণ কাঠ-খড় মাটির গোয়ালঘর থেকে সংগ্রহ করে কৌটোয় আবদ্ধ করা গন্ধ! ঘাস-বিচালি-গোময়, গোমূত্র, গরুর ঢেকুর তথা বাতকর্মের মনোরম সুবাস পাবেন —স্রেফ, পাঁচ পাউন্ড!!

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy