Advertisement
১৮ জুলাই ২০২৪

ফিরলেন লাভলি, মাকেনও মচকালেন

মাকেনের সঙ্গে দিল্লি কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি লাভলির বিবাদ নতুন নয়। শীলা দীক্ষিতের সঙ্গেও মাকেনের বিবাদ সুবিদিত। কিন্তু সেই শীলাই গত সপ্তাহে মাকেনের সঙ্গে এক মঞ্চে এসেছেন।

কৌশলী রাহুল।  তাঁর ডাকে বিজেপি থেকে ফের কংগ্রেসেই ফিরলেন অরবিন্দর সিংহ লাভলি। শনিবার দিল্লিতে। ছবি: পিটিআই।

কৌশলী রাহুল।  তাঁর ডাকে বিজেপি থেকে ফের কংগ্রেসেই ফিরলেন অরবিন্দর সিংহ লাভলি। শনিবার দিল্লিতে। ছবি: পিটিআই।

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০৩:৩৯
Share: Save:

রাজ্যে-রাজ্যে নেতায়-নেতায় লড়াই থামাতে রাশ ধরেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। তার প্রথম সাফল্য এল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাওয়া দিল্লির নেতা অরবিন্দর সিংহ লাভলির ‘ঘর-ওয়াপসি’র মাধ্যমে।

শীলা দীক্ষিতের অনুগামী এই নেতা অমিত শাহের শরণাপন্ন হয়েছিলেন দিল্লি প্রদেশ সভাপতি অজয় মাকেনের সঙ্গে বিবাদের জেরে। মাকেনকে পদ থেকে সরানোর জন্য দিল্লির কংগ্রেসেও প্রবল চাপ ছিল। কিন্তু রাহুল তাঁকে সরাননি। বরং মাকেনকে দিয়েই মন জয় করিয়ে তিনি আজ দলে ফেরালেন লাভলিকে। আজ সকালে রাহুলের বাড়িতে মাকেনের উপস্থিতিতেই লাভলিকে কংগ্রেসে ফেরান তিনি।

এর পর প্রকাশ্যেই মাকেন স্বীকার করেন, ‘‘আমারই ভুল ছিল। আমিই নমনীয় ছিলাম না। আমার কারণেই যোগাযোগের অভাব তৈরি হয়েছিল। আমি নিজের খামতি শুধরে নিচ্ছি।’’ পাশে বসে লাভলিও বললেন, ‘‘মতপার্থক্যের জেরেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি গিয়েছিলাম। কিন্তু পর দিনই বুঝতে পারি, আমি আদর্শগত ভাবে সেখানে মানানসই নই। পরে অজয় মাকেনের সঙ্গে আলোচনা করে ফের দলে ফিরে এলাম।’’

মাকেনের সঙ্গে দিল্লি কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি লাভলির বিবাদ নতুন নয়। শীলা দীক্ষিতের সঙ্গেও মাকেনের বিবাদ সুবিদিত। কিন্তু সেই শীলাই গত সপ্তাহে মাকেনের সঙ্গে এক মঞ্চে এসেছেন। সরব হয়েছেন তিন বছর পূর্ণ করা অরবিন্দ কেজরীবাল সরকারের বিরুদ্ধে। শীলা আজ জানান, লাভলি দলে ফিরে আসায় তিনিও খুশি।

এই অসাধ্যসাধন হল কী করে?

কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, এর পুরো কৃতিত্ব রাহুলেরই। রাজ্যে-রাজ্যে কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হল নেতায় নেতায় লড়াই। গুজরাতের ভোটের সময়ে রাহুল তখন দলের সহ-সভাপতি। প্রচার শুরুর আগেই তিনি সে রাজ্যে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সব মাথাকে এক করেছিলেন। সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ায় নরেন্দ্র মোদীর গড়ে প্রায় জেতার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছিল কংগ্রেস। এ বার লাভলি-পর্ব। যাঁকে বিজেপিতে স্বাগত জানিয়ে অমিত শাহ একসঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলিয়েছিলেন, সেই লাভলিকে কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনাটা অবশ্যই প্রথম বড় সাফল্য সভাপতি রাহুলের কাছে।

তবে লাভলিকে ফেরানার চেয়েও কংগ্রেস নেতারা যেটিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা হল রাহুলের কৌশলী নেতৃত্ব ও একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা। মাকেনের মাধ্যমেই লাভলিকে দলে ফেরানো নিয়ে কংগ্রেসের এক নেতা বললেন, ‘‘এতে সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না। মাকেনকেও পদ থেকে সরতে হল না। আবার মাকেনকে দিয়ে ভুল স্বীকার করিয়ে নেতাদের বিবাদও ঠান্ডা করানো গেল। এটাই রাহুলজির নেতৃত্ব।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE