E-Paper

মানসিক স্বাস্থ্য প্রশ্নের মুখে, উপত্যকায় ‘নীরব মহামারি’

রিপোর্টের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, উপত্যকায় বসবাসকারী প্রায় ৪৫ শতাংশ তরুণ-তরুণীই অবসাদের শিকার। পাশাপাশি বিষণ্ণতার উপসর্গও দেখা যাচ্ছে প্রায় ৪১ শতাংশের মধ্যে।

সাবির ইবন ইউসুফ

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১

— প্রতীকী চিত্র।

টানা কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা সংঘাত এবং তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব স্বরূপ উপত্যকায় অস্থিতিশীলতা। আর্থ-সামাজিক এই নিত্য টানাপড়েনের মাঝেই নীরবে কাশ্মীরের যুব-সমাজের মনে বাসা বাঁধছে অবসাদ!

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। রিপোর্টের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, উপত্যকায় বসবাসকারী প্রায় ৪৫ শতাংশ তরুণ-তরুণীই অবসাদের শিকার। পাশাপাশি বিষণ্ণতার উপসর্গও দেখা যাচ্ছে প্রায় ৪১ শতাংশের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ— শতাংশের হিসেবে অঙ্কটা চিন্তার হলেও, রাজ্য সরকারের তরফে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগের অভাব রয়েছে। যার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের নথিতেও। সেখানে উল্লেখযোগ্য ভাবে অনুপস্থিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সমাজের বিভিন্ন মহলে।

এই প্রসঙ্গে শ্রীনগরের ‘ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেল্‌থ অ্যান্ড নিউরো-সায়েন্সস’-এ কর্মরত প্রবীণ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোয়েন আন্দ্রাবি বলছিলেন, ‘‘এ যেন এক নীরব মহামারি! এক একটি ঘটনা পুরো পরিবারকে প্রভাবিত করছে।’’ তাঁর মতে, কাশ্মীরের অশান্ত অতীত এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলি এখানকার তরুণ প্রজন্মকে ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদের দিকেঠেলে দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, শ্রীনগরে অবস্থিত ‘ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেল্‌থ অ্যান্ড নিউরো-সায়েন্সেস’ দীর্ঘ সময় ধরেই উপত্যকা এলাকার বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সাধারণত প্রতি দিন এখানে ৩০০-৪০০ মানুষ পরিষেবা পান। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে দৈনন্দিন হিসেবের নিরিখে সেই সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একটি তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, কেবল ২০২২ সালেই ২.০৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই সংস্থা থেকে পরিষেবা নিয়েছিলেন।

কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি?

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আব্দুল বারির ব্যাখ্যা, ‘‘নিত্য সংঘর্ষ, প্রিয়জনকে হারানো, বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার মতো ঘটনাগুলির সঙ্গে এখানকার মানুষদের লড়াই করতে হচ্ছে। যা তাঁদের মনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।’’ তিনি আরও জানালেন, মানসিক অবসাদের শিকার কেবল উপত্যকার যুব-সমাজই নয়, বরং অবসাদ প্রভাব ফেলেছে প্রাপ্তবয়স্কদের মনেও। সে তথ্য উঠে এসেছে সরকারি রিপোর্টেও। তাতে জানানো হয়েছে, জীবদ্দশায় উপত্যকার মানুষেরা প্রায় সাতটিরও বেশি এমন ঘটনার সম্মুখীন হন, যা তাঁদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

উপত্যকা এলাকার ক্রমবর্ধমান এই সমস্যার কথা মানছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। জেলা স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি জোরদার করতে, কাউন্সেলিং পরিষেবা বাড়াতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mental Health Awareness Mental Depression Jammu and Kashmir

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy