রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেসের জনসংযোগ দফতরের চেয়ারম্যান পবন খেরা অভিযোগ তুলেছিলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভুঁইঞা শর্মার তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট, দুবাইয়ে সম্পত্তি ও আমেরিকায় কোম্পানিতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, মঙ্গলবার সকালে দিল্লিতে পবন খেরার বাড়িতে অসম পুলিশ ও দিল্লি পুলিশের যৌথ বাহিনী হানা দিল। পবন খেরা বাড়িতে না থাকলেও তাঁর নিজামুদ্দিন বাসভবনে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, পবন খেরাকে তিনি ‘পবন পেড়া’ বানিয়ে ছাড়বেন। হিমন্ত বলেছিলেন, ‘‘পবন খেরার জেল হবে কি হবে না, সেটা অন্য বিষয়। কিন্তু আমার গায়ে হাত দিয়েছে, তখন ওঁকে তো আমি চুমু দেব না। ভাল করে মালিশ করা হবে। আর অভিযোগ সত্যি হলে পুলিশ যেন রিণিকিকে গুলি করে মেরে ফেলে।’’ হিমন্তর দাবি ছিল, কৃত্রিম মেধা ও ফোটোশপ করে কংগ্রেস জাল নথি তৈরি করেছে। খেরার বিরুদ্ধে রিণিকি ফৌজদারি মানহানির মামলার সঙ্গে সাইবার থানাতেও এফআইআর করেছিলেন। সেই এফআইআর-এর ভিত্তিতেই পুলিশ খেরার বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অসম পুলিশের ডেপুটি কমিশনার দেবজিৎ নাথের দাবি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তিন বছর আগে, ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারিতে এই পবন খেরার বিরুদ্ধে অসম পুলিশ নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে ‘আপত্তিজনক মন্তব্য’ করার জন্য এফআইআর-এর ভিত্তিতে দিল্লিতে এসে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। রায়পুরে কংগ্রেসের প্লেনারি অধিবেশনে যাওয়ার সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস সূত্রের খবর, পবন খেরা আপাতত কোনও একটি কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে রয়েছেন। হিমন্তর মন্তব্য, ‘‘পুলিশ যেতেই খেরা হায়দরাবাদ পালিয়ে গিয়েছেন বলে শুনছি।’’
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের অভিযোগ, পবন খেরা জনস্বার্থে কিছু প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাতেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিচলিত হয়ে পড়েছেন। বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। এ থেকেই প্রমাণিত, মুখ্যমন্ত্রী হারের ভয় পাচ্ছেন। হিমন্ত এ দিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে ‘পাগল’ বলে আক্রমণ করেছেন। রিণিকি বলেছেন, ‘‘কংগ্রেসকে পাগল কুকুরে কামড়েছে।’’ এই ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়ে রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘মল্লিকার্জুন খড়্গে সম্পর্কে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার নিন্দাজনক। লজ্জাজনক এবং কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খড়্গেজি বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় দলিত নেতা। তাঁকে অপমানের অর্থ এক জন ব্যক্তিকে নয়, গোটা দেশের তফসিলি জাতি, জনজাতিকে অপমান।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরাসরি প্রশ্ন করতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে, আপনি কি হিমন্তের এই ভাষাকে সমর্থন করেন? আপনার নীরবতা কিন্তু সম্মতির লক্ষণ।’ কংগ্রেসের দাবি, দলিত নেতা খড়্গেকে এই ভাষায় আক্রমণের জন্য হিমন্তকে ক্ষমা চাইতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)