Advertisement
E-Paper

Congress: কংগ্রেসের বাংলাদেশি প্রসঙ্গ ক্ষোভ বাড়াল সিপাঝারে

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে দেখা করার পরে ইউডিএফ কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় তুলে বলল, “গত ৭০ বছর ধরে অসমে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করার ফলেই আজ এই ঘটনা ঘটেছে।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:০৮
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

দরং জেলার সিপাঝারে গরুখুঁটির উচ্ছেদ অভিযান, গুলি, মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তেড়েফুঁড়ে শাসকবিরোধী রাজনীতিতে নেমেছিল কংগ্রেস। জেলাশাসকের সামনে গিয়ে নিজের জামা ছিঁড়ে, ‘কিল মি’ বলে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বরা। কিন্তু সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনগুলি তো বটেই, এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে লড়তে নামা সংখ্যালঘুদের সংগঠন ইউডিএফ-কেও পাশে পেল না কংগ্রেস। উল্টে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে দেখা করার পরে ইউডিএফ কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় তুলে বলল, “গত ৭০ বছর ধরে অসমে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করার ফলেই আজ এই ঘটনা ঘটেছে।”

সমালোচনায় পড়ে কংগ্রেস আজ বলে, তারা জবরদখলকারীদের উচ্ছেদের বিরোধী নয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উচ্ছেদ চালাতে হবে। হাই কোর্ট কোভিডের মধ্যে উচ্ছেদ স্থগিত রাখতে বলেছিল। তার পরেও এত শিশু-মহিলাকে ঝড়-বৃষ্টিতে ত্রিপলের তলায় রাত কাটাতে হচ্ছে। তা দুর্ভাগ্যজনক।

কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, এখন সরকার ভূমিহীনদের ৬ বিঘা জমি দেবে বলছে। কিন্তু তারা অবৈধ বাংলাদেশি হলে কেনই বা জমি দিচ্ছে সরকার। যদি তাঁরা অবৈধ নাগরিক হন, তবে তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিপজ্জনক। এত দিন কেন সরকার ও পুলিশ গোয়েন্দারা চুপ করে ছিল? কংগ্রেসের এমন মন্তব্যে গরুখুঁটির মানুষ আরও ক্ষিপ্ত ও আতঙ্কিত। তাঁদের মতে, সরকার জমিহীন সব পরিবারকে ৬ বিঘা জমি দেবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিল। এখন কংগ্রেস পাশে দাঁড়ানোর নাম করে ফের তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ইউডিএফ বিধায়ক করিমুদ্দিন বরভুইয়াঁ বলেন, “উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জামা ছিঁড়ে নাটক করার দরকার নেই কংগ্রেসের। ২০০১ থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় ভোটের স্বার্থে বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও জমি হারানো মানুষগুলিকে জমির পাট্টা দেওয়া বা স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা— কিছুই করেনি কংগ্রেস। বড়োভূমি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের উপরে হওয়া হামলা ও অত্যাচার কংগ্রেসের আমলেই হয়েছে। তার ফলেই, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ইউডিএফের জন্ম হয়েছিল।”

গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন ইউডিএফ ও দিল্লি থেকে আসা জামাত-ই-হিন্দ এবং জমিয়তে উলেমা হিন্দের প্রতিনিধিরা। তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনায় তাঁরা খুশি। তিনি সকলের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। ইউডিএফ দাবি করেছে, উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে আন্দোলনে নামবে ইউডিএফ। আজ ইউডিএফ ও জমিয়তের প্রতিনিধিরা দরং সফর করেন।

গরুখুঁটির হাঙ্গামায় উস্কানি দেওয়ায় মহম্মদ আসমত আলি আহমেদ ও মহম্মদ চাঁদ মামুদ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঁদ সোনোয়া পঞ্চায়েতের সভাপতি ও আসমাত বোজোনা পথার পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সভাপতি। তাদের সঙ্গে পিএফআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ছাড়াও আমসু, ইত্তেহাদ ফ্রন্ট, ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার কয়েক জন নেতা, এক অধ্যাপকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উদ্ধার করা জমিতে চাষবাষ আরম্ভ হয়েছে। সেখানকার জমির ধান ও গরুর দুধ সকলে খাবে। সৃষ্টির আনন্দের সঙ্গেই হিংসাত্মক কাজকর্ম শেষ হবে। এর পর লামডিংয়ে জবরদখলকারীদের উচ্ছেদ করা হবে।”

Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy