Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

দেশ

প্রাক্তন পুত্রবধূর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’, সোনুকে একাধিক বার ‘খুনের চেষ্টা’ করেছিলেন বাল ঠাকরে!

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৫ এপ্রিল ২০২১ ১৭:১৯
দু’দশক আগে নাকি সোনু নিগমকে খুন করাতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন বালাসাহেব ঠাকরে। বছর দু’য়েক আগে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন রাজনীতিক নীলেশ রানে। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নারায়ণ রানের ছেলের এই অভিযোগের জেরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল বিনোদন এবং রাজনীতির দুনিয়ায়।

শিবসেনার প্রাক্তন নেতা নারায়ণ ১৯৯৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। পরে মতান্তরের জেরে শিবসেনা তাঁকে বহিষ্কার করে। নারায়ণের বড় ছেলে নীলেশ প্রথমে কংগ্রেস, পরে ২০১৯ সালে বিজেপি-তে যোগ দেন। পঞ্চদশ লোকসভার তিনি সদস্যও ছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন শিবসেনা প্রার্থী বিনায়ক রাউতের কাছে।
Advertisement
কিন্তু কী এমন জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যার জন্য সোনুর মতো জনপ্রিয় গায়ককে খুন করাতে চাইবেন বালাসাহেব? বিশেষত সেই সময়ে যখন সোনু রাজনীতি থেকে শত হস্ত দূরে থাকতেন।

শোনা যায়, ঠাকরে পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন সোনু। সোনু বিয়ে করেছিলেন ২০০২ সালে। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই স্ত্রী মধুরিমার সঙ্গে সোনুর সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়।
Advertisement
এক সাক্ষাৎকারে সোনু বলেওছিলেন, তিনি আর মধুরিমা একই ছাদের নীচে থাকলেও তাঁদের মধ্যে দূরত্ব দীর্ঘ। কারণ তাঁরা দু’জনেই একে অন্যকে ‘স্পেস’ দিচ্ছিলেন। বিবাহিত জীবনের এ রকম এক টানাপড়েনের সময়ে সোনুর নাম স্মিতা ঠাকরের সঙ্গে জড়িয়ে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।

বালাসাহেব ঠাকরের মেজো ছেলে জয়দেবের সঙ্গে স্মিতার বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। তাঁদের দাম্পত্য ভেঙে যায় ২০০৪ সালে। তবে বিচ্ছেদের পরেও স্মিতা তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ির সঙ্গে থাকছিলেন তাঁদের পারিবারিক বসতবাড়ি ‘মাতশ্রী’-তেই।

স্মিতা বরাবরই সঙ্গীতানুরাগী। হিন্দি ছবির জগতেও তার আগ্রহ ছিল। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করেন প্রযোজনা। স্মিতার প্রযোজিত প্রথম ছবি ছিল ‘হসিনা মান জায়েগী’। ২০০৫ সাল নাগাদ ইন্ডাস্ট্রিতে তীব্র হয়েছিল সোনু-স্মিতা সম্পর্কের গুঞ্জন।

শিল্পকলায় অনুরাগী স্মিতা ছিলেন সমাজকর্মীও। শিবসেনায় বিশেষ গুরুত্ব না পেয়ে তিনি আরও বেশি করে জড়িয়ে পড়েন সমাজকল্যাণমূলক কাজে। তাঁর সংস্থার আয়োজিত এক অনুষ্ঠান সঞ্চালনাও করেছিলেন সোনু।

সে সময় সোনুকে নিয়ে আপত্তিজনক প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়েছিল স্মিতাকে। তাঁদের মধ্যে কোনও বিশেষ সম্পর্ক আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে স্মিতা বলেছিলেন তিনি ঠাকরে পরিবারের মধ্যে ‘সহজ নিশানা’। তাই তাঁর সম্বন্ধে এই সব কটূক্তি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁদের মধ্যে কোনও বিশেষ সম্পর্কের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়ে স্মিতা দাবি করেন, সোনু এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে তাঁর। পরে অবশ্য স্ত্রী মধুরিমার সঙ্গে সোনুর সম্পর্ক ভাল হয়ে যায়। দীর্ঘ কয়েক বছর পরে সোনু এবং স্মিতাকে আবার একসঙ্গে দেখা যায় স্মিতার ছেলে রাহুলের বিয়েতে।

সোনু এবং স্মিতাকে জড়িয়ে গুঞ্জন পর্ব স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল ২০০৫ সাল নাগাদই। এর পর দু’জনেই নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। স্মিতা প্রযোজনা করেছেন হিন্দি ও মরাঠি ছবি এবং ধারাবাহিক। সোনুও একে একে সাফল্যের ধাপ পেরিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের প্রসঙ্গ আবার কেন উঠে এল ২০১৯ সালে?

বিভিন্ন মহলের মত, রাজনীতিতে এ রকম কিছু পুরনো কাসুন্দিকে রেখেই দেওয়া হয় পরে প্রয়োজন মতো নিজের সুবিধায় ব্যবহার করার জন্য। দলের সঙ্গে রানে পরিবারের সম্পর্ক বেশ কিছু দিন ধরেই তিক্ত ছিল। পরে ২০০৫ সালে নারায়ণ রানেকে বহিষ্কার করা হয়।

পরে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। মহারাষ্ট্রের রাজস্বমন্ত্রী হন তিনি। কিন্তু কংগ্রেসেও মতান্তর। ২০০৮ সালে ৬ বছরের জন্য নারায়ণ রানেকে বহিষ্কার করে কংগ্রেস। পরে সনিয়ার কাছে ক্ষমা চান রানে। তাঁকে আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মহারাষ্ট্রের শিল্পমন্ত্রী হন তিনি।

২০১৭ সালে নারায়ণ রানে স্বেচ্ছায় কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নতুন দল তৈরি করেন। নাম দেন, ‘মহারাষ্ট্র স্বাভিমান পক্ষ’। কিন্তু শিবসেনা এবং তাঁর মধ্যে পুরনো ক্ষত প্রশমিত হয়নি। ২০১৭ সালে তিনি শিবসেনার সমালোচনা করেন। নারায়ণ নতুন দল করার পরে দুই দলের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

শিবসেনার বিনায়ক রাউত ২০১৯ সালে অভিযোগ করেন, নারায়ণ রানের রাজনীতিক জীবনে ১০টি রাজনৈতিক খুন হয়েছে। সে বিষয়ে তাঁকে মুখ খুলতে হবে। স্পষ্ট করতে হবে সব ধোয়াঁশা। এর পরই বিস্ফোরক দাবি করেন নারায়ণ রানের বড় ছেলে নীলেশ।

নীলেশও এক সময় ছিলেন কংগ্রেসে। পরে তিনি বিজেপি-তে যোগ দেন। ২০১৯ সালে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ঠাকরে পরিবারের বিরুদ্ধে। পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে নীলেশ বলেন, তাঁর মুখ না খোলানোই ভাল। ঠাকরে পরিবারের সঙ্গে সোনুর কী সম্পর্ক? কেন এবং কত বার সোনুকে খুন করানোর কথা ভেবেছিলেন বালা সাহেব ঠাকরে? এ সবই তিনি জানেন বলে দাবি করেন নীলেশ।

কর্জতে ঠাকরেদের যে খামারবাড়ি আছে, সেখানে কত জনকে যে খুন করানো হয়েছে, সে সবও তিনি জানেন বলে দাবি করেন রানে-পুত্রর। তাঁর মুখ খোলানো হলে সকলের মুখোশ তিনি টেনে খুলে দেবেন বলে দাবি করেন। তাঁকে যেন মুখ খুলতে বাধ্য না করা হয়, হুমকি দেন নীলেশ।

এ সব বিস্ফোরক কথা হয়তো চাঞ্চল্য তৈরির জন্যই বলেছিলেন নীলেশ। সোনু-স্মিতা সম্পর্ক বা সোনুকে ঠাকরের খুন করানোর ষড়যন্ত্র নিয়ে কোনও প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সে সময় সোনুকেও সরাসরি এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল। গায়ক মুখে কিছু না বললেও তাঁর চোখমুখের অঙ্গভঙ্গি এবং শরীরী ভাষা অনেক কিছু বলে ফেলেছিল।

ক্যামেরার সামনে চোখে মুখে তীব্র ক্ষোভ গোপন করতে পারেননি সোনু। পরে অবশ্য তিনি মুখে হাসি ফুটিয়ে পুরো পরিস্থিতি হালকা করার চেষ্টা করেছিলেন। উত্তর না দিলেও তাঁর মুখের অভিব্যক্তি অনেক কিছুই ইঙ্গিত করেছিল।