আগামী লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে পটনায় ১২ জুন বসছে বিরোধী দলগুলির বৈঠক। নীতীশ কুমারদের ডাকা ওই বৈঠকে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন দলেরই যোগ দেওয়ার কথা। তার আগে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের সঙ্গে দেখা করে বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা না করার আর্জি জানালেন এ রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা। সূত্রের খবর, রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এআইসিসি-র তরফে।
দিল্লিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস সভাপতি খড়্গের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য, রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, অমিতাভ চক্রবর্তী, কলকাতার কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক ও প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি আজ়হার মল্লিক। এআইসিসি-র দফতরে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপালের সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁদের। খড়্গের কাছে গিয়ে প্রদীপ, মান্নানেরা সাগরদিঘির কংগ্রেস বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের দলবদলের প্রসঙ্গ তুলে এ রাজ্যে তৃণমূলের ‘আগ্রাসনে’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের দাবি, জাতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনে তৃণমূল শামিল হলেও বাংলায় কোনও ভাবেই তাদের সঙ্গে সমঝোতা চলবে না। তাঁদের আরও বক্তব্য, বাইরন-কাণ্ড সম্পর্কে খড়্গে পুরোপুরি অবহিত। সেই কারণেই এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন। কংগ্রেসকে ভাঙানো যে তৃণমূলের ‘পুরনো কৌশল’, সেই বিষয়ে এ দিনের সাক্ষাতে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, খড়্গে জানিয়েছেন, বাংলায় তৃণমূলের গোটা কাজকর্ম প্রসঙ্গে এআইসিসি অবহিত। রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামত না নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে হাই কম্যান্ডের তরফে।
এক দিকে পটনায় বিরোধী-বৈঠক এবং তার পাশাপাশি বাংলায় তৃণমূল-বিরোধিতা প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও বলেছেন, ‘‘বিরোধী দলগুলির বৈঠক ডেকেছেন নীতীশ কুমার। কংগ্রেস সেখানে আমন্ত্রিত। জাতীয় স্তরে এমন বৈঠক বা একসঙ্গে কোনও পদক্ষেপ হয়েই থাকে। কিন্তু বারবার বলছি, বাংলায় তৃণমূলের দুর্নীতি, অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আমরা সরে আসব না।’’ তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমি আদার ব্যাপারী, বাংলার ব্যাপারে যা বুঝি, তা-ই বলছি। জাহাজের খবর বলতে পারব না!’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)