শিশুদের জন্য বই লিখতেন বছর পঁয়ত্রিশের কৌরি রিচিনস্। তাঁর শেষ বই ছিল দুঃখ-বিষাদ কী এবং কেন, তা-ই নিয়ে। সেটিও কিশোর সাহিত্য। মার্কিন পুলিশের দাবি, ওই বই লেখার আগে স্বামীকে খুন করেছিলেন লেখিকা। তার ছাপ লেখাতেও পড়েছে। তিন সন্তানের মা, সাহিত্যিক রিচিনসে্র বিরুদ্ধে সোমবার থেকে খুনের মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
আমেরিকার উটাহের বাসিন্দা কৌরির স্বামী এরিক রিচিনসে্র মৃত্যু হয় ২০২২ সালে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছিলেন কৌরি। স্বামীর পানপাত্রে বিষ মিশিয়েছিলেন তিনি।
অভিযোগ, স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা অনেক দিনের। চেষ্টাও ছিল দীর্ঘ দিনের। কৌরি সম্পর্কে আদালতের তথ্য বলছে, খুনের এক মাস আগে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’-তে এরিকের স্যান্ডউইচে বিষপ্রয়োগ করেছিলেন তিনি। সেই খাবার খেয়ে সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন এরিক। কিছু দিন পর সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু খাবার খাওয়ার পরে কেন অসুস্থ হলেন, তা ধরতে পারেননি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একটি বিশেষ রকমের বিষপ্রয়োগ করতেন কৌরি। কয়েক মাসের চেষ্টার পর স্বামীকে মেরে ফেলতে ‘সফল’ হন লেখিকা। খুনের নেপথ্যে উঠে এসেছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং আর্থিক বিষয়। তদন্তকারীদের দাবি, স্বামীর অর্থ এবং সম্পত্তির দিকে নজর ছিল লেখিকার। স্বামীর সঙ্গে আর থাকতেও চাইছিলেন না। অন্য এক পুরুষের প্রতি আসক্ত ছিলেন লেখিকা। সেখান থেকেই শুরু হয় এরিককে খুনের ছক। পাশাপাশি লেখালিখিও চলছিল। ২০২৩ সালের মে মাসে কৌরিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার তিন মাস আগে কিশোর-কিশোরীদের জন্য লেখা ‘আর ইউ উইথ মি’ বইটি প্রকাশিত হয়। স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে বইটির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন কৌরি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই বইটিতে স্বামীকে খুনের একটি কাহিনি রয়েছে। তদন্ত সহজ হয়েছে অভিযুক্তের লেখা বইয়ের জন্যই।
আরও পড়ুন:
এখানেই শেষ নয়, স্বামী মারা গেলে বিমার অর্থ পাবেন, এই লোভে এরিকের নামে বেশ কয়েকটি বিমা করিয়ে রেখেছিলেন বলে কৌরির বিরুদ্ধে অভিযোগ। এরিকের অজান্তেই তাঁর নামে জীবনবিমা করছিলেন স্ত্রী। স্বামীর নামে বড় অঙ্কের ঋণও নিয়েছিলেন লেখিকা।
কৌরির বিরুদ্ধে সবমিলিয়ে প্রায় তিন ডজন মামলা রুজু হয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, জালিয়াতি, বন্ধকি জালিয়াতি এবং বিমা জালিয়াতির মতো ঘটনায় অভিযুক্ত তিনি। শুধুমাত্র খুনের অভিযোগেই ২৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।