গর্ভপাতের পরে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ত্বিশা শর্মা। মধ্যপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর জেরায় এমনটাই দাবি করেছেন মৃতের স্বামী সমর্থ সিংহ। ত্বিশাকে তিনি সাত লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন ধৃত। ত্বিশার মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে সিবিআই। তার আগে সমর্থকে প্রায় তিন ঘণ্টা জেরা করে সিট। সূত্রের খবর, সিটের জেরার সময়ে এই দাবিগুলি করেছেন তিনি।
মধ্যপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে এএনআই জানাচ্ছে, সমর্থকে জেরার পরে প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন সিটের আধিকারিকেরা। ওই সূত্রের দাবি, জেরায় সমর্থ জানিয়েছেন, ত্বিশা যে দিন জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন, তখন থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি হতে শুরু করেছিল। গর্ভপাতের পরে ত্বিশা মানসিক ভাবে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও জেরায় জানিয়েছেন সমর্থ। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পরে কেন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তা নিয়ে জেরায় স্পষ্ট ভাবে কিছু জানাননি তিনি। সূত্রের দাবি, এই প্রশ্ন করা হলেই তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন।
সিটের জেরার সময়ে সমর্থ বার বার দাবি করেন, ত্বিশাকে তিনি সাত লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তবে কেন সেই টাকা দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। পেশায় আইনজীবী সমর্থের ল্যাপটপ, মোবাইল, পাসপোর্ট, আধার কার্ড-সহ বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নয়ডার ত্বিশার সঙ্গে গত বছর বিয়ে হয়েছিল ভোপালের বাসিন্দা সমর্থের। তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। ভোপালের সেই শ্বশুরবাড়িতে গত ১২ মে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্বিশার দেহ। শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। যদিও বাপেরবাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, এর নেপথ্য ষড়যন্ত্র রয়েছে। পণের জন্য অত্যাচার এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে। ত্বিশার মৃত্যুর তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রথমে প্রশ্ন উঠেছিল। কেন অভিযোগ পাওয়ার দু’দিন পরে এফআইআর রুজু হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার।
ত্বিশার মৃত্যুরহস্য নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে সুপ্রিম কোর্টও। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে ওই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করতে হবে সিবিআই-কে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।