সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা নিয়ে কড়া নিয়মনীতি চালু করল বিহার সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিহার সরকারের কর্মীরা ফেসবুক, এক্স হ্যান্ডল কিংবা ইনস্টাগ্রামের মতো মঞ্চে সরকারের নীতি, বিভিন্ন প্রকল্প কিংবা আদালতের রায় নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত জানাতে পারবেন না।
সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে এই বছরের জানুয়ারি মাসে ‘বিহার গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস কনডাক্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস ২০২৬’ অনুমোদিত হয়। রাজ্যপালের অনুমোদনের পর শুক্রবার রাতে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তা প্রকাশিত হয়েছে। ডিজিটাল যুগে সরকারি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে বিহার সরকার এই পদক্ষেপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা এক্স হ্যান্ডলের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে সরকারের নীতি, প্রকল্প কিংবা বিচার বিভাগের বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট কিংবা হাই কোর্টগুলির রায় নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তা শৃঙ্খলাভঙ্গের উদাহরণ হিসেবে দেখা হবে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে সরকারি ইমেল আইডি বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করাও চলবে না। পাশাপাশি, ভুয়ো প্রোফাইল খোলা, ভুতুড়ে পরিচয়ে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করা কিংবা ছদ্মনামে পোস্ট দেওয়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ছবি, ভিডিয়ো, ডকুমেন্ট শেয়ার করা কিংবা অফিসে বসে রিলস বানানোও নিষিদ্ধ হয়েছে। জানানো হয়েছে, এমন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, বিহার সরকারের কর্মীরা কোনও রাজনৈতিক দল, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের মতামত পেশ করতে পারবেন না। ধর্ম, জাতপাত এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ে আপত্তিকর কোনও পোস্ট করতে পারবেন না তাঁরা।
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করায় নিয়ন্ত্রণ আনাই শুধু নয়, সরকারি কর্মচারীদের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসা নিয়েও নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাঁচবার বসার সুযোগ পেতেন কর্মচারীরা। এখন গোটা চাকরি জীবনে একবার মাত্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন তাঁরা। তা-ও আবার সরকারের আপত্তি না থাকার শংসাপত্র মিললে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)