দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের ছোট, মাঝারি থেকে বড় নেতা। প্রায় সকলের গ্রেফতারির পরেই একটি ছবি দেখা যাচ্ছে— ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে দিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভ। কোথাও কোথাও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ করছেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে হুগলির নবগ্রামে বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের দুই নেতা! ‘বালতি চোর’ বলে তাঁদের কটাক্ষ শানালেন বিরোধীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শ্রীরামপুরের নবগ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে একশোর বেশি প্লাস্টিকের বালতি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ লেখা স্টিকার লাগানো সব ক’টি বালতির গায়ে। বর্জ্য ফেলার জন্য সাধারণ মানুষকে ওই বালতিগুলো দেওয়ার কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেগুলো এত দিন পর্যন্ত তৃণমূল নেতারা নিজেদের বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন। এখন বিপদ বুঝে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন। শুক্রবার রাতে ওই নিয়ে শোরগোল শুরু হয় পঞ্চায়েত অফিসের সামনে। পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা বালতিগুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকল্পের সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হত। হঠাৎ করে এত বালতি কী ভাবে পঞ্চায়েত চত্বরে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর মাঝে বালতি চুরির অভিযোগে শ্রীরামপুরে রাজ্যধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেখানে তৃণমূলের কার্যালয়ে বালতি, সাদা থান, মশারি ইত্যাদি মজুত থাকতে দেখে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।
আরও পড়ুন:
ধৃত তৃণমূল নেতা মোহন মণ্ডল এবং বিষ্ণু মণ্ডলের দাবি, মানুষকে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল জিনিসগুলো। ভোটের সময় বিলি করা যাবে না বলে ‘নিশ্চিন্ত জায়গায়’ রেখে দিয়েছিলেন। ভোটের ফলপ্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের হাতে সেগুলো তুলে দেওয়ার আগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।