ধরা দেওয়ার আগে ধরা পড়লেন শওকত মোল্লা। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক, ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থীকে গ্রেফতার করল এনআইএ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পালানোর সময় চুনাখালিতে সাধারণ মানুষের তাড়া খান শওকত। তাঁকে চিনতে পেরে যান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে আলিপুর কোর্টে দুপুরে হাজির করানো হয় শওকত-বাহিনীর কয়েক জনকে। সারা দুপুর কোর্ট চত্বরে তাদের নজরবন্দি করে রেখেছিল এনআইএ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলিপুর কোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এক জনকে। আর উপায় নেই বুঝে রাতে নিউ টাউনের কেন্দ্রীয় সংস্থার দফতরে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন শওকত। তবে তার আগেই চিংড়িঘাটায় মাঝরাস্তা থেকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার সকালে শওকতের জীবনতলার বাড়িতে হানা দিয়েছিল এনআইএ। বাড়িতে ছিলেন না তৃণমূল নেতা। তখন পুত্র ইমরান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তল্লাশি অভিযান চালায় তারা। ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার সূত্র ধরে ওই তল্লাশি অভিযান চলে। বিধানসভা ভোটের দিন কয়েক আগে বিস্ফোরণের এক জনের প্রাণহানি হয়। জখম হন বেশ কয়েক জন।
আরও পড়ুন:
ওই ঘটনায় আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির এনআইএ তদন্তের দাবি করেন। শেষমেশ তা-ই হয়। পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক। সেই সূত্র ধরে শওকতের খোঁজে ছিল এনআইএ। কিন্তু বিপদ বুঝে বাংলাদেশ পালানোর চেষ্টা করছিলেন তৃণমূল নেতা, এমনটাই সূত্রের খবর। যদিও সেই চেষ্টা সফল হয়নি। নিজের জেলাতেই গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাছের লোকজন ধরা পড়ার পর আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আত্মসমর্পণ আর করতে হয়নি, তার আগেই শওকতকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল এনআইএ।