Advertisement
E-Paper

আবাস প্রকল্পে ‘সেল্‌‌ফ সার্ভে’ চালু রাজ্যে, প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিতকরণে ত্রিস্তরীয় যাচাইয়ের নির্দেশ রাজ্য সরকারের

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেরাই আবাস প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদন পরবর্তী কালে সরকারি স্তরে যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৩:৪৫
Self-survey for housing scheme launched in the West Bengal

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

গ্রামীণ আবাস প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করতে পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। অন্যান্য রাজ্যের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও চালু করা হচ্ছে ‘সেল্‌‌ফ সার্ভে’ বা স্ব-সমীক্ষা পদ্ধতি। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেরাই আবাস প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদন পরবর্তী সময়ে সরকারি স্তরে যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসককের উদ্দেশে গত ৩০ মে পাঠানো এক নির্দেশিকায় এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে ‘আবাসপ্লাস ২০২৪’ এবং ‘আধারফেস আরডি’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এর পর আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁরা আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদন জমা পড়ার পর নির্দিষ্ট সার্ভেয়ার বা সমীক্ষকেরা আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন এবং আবাস প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী উপভোক্তা হিসাবে যোগ্যতা পরীক্ষা করবেন। তবে শুধুমাত্র অনলাইন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেই নয়, যাঁরা প্রযুক্তিগত কারণে বা অন্য কোনও সমস্যার জন্য নিজেরা আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সার্ভেয়াররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং যোগ্য পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করবেন। ফলে কোনও প্রকৃত উপভোক্তা যাতে তালিকার বাইরে না থেকে যান, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।

নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, উপভোক্তাদের তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ত্রিস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হবে। জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্তত ১০ শতাংশ পরিবারের তথ্য ব্লক বা মহকুমা স্তরের আধিকারিকদের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্লকস্তরের আধিকারিকদের পৃথক পর্যালোচনা এবং ২ শতাংশ ক্ষেত্রে জেলাস্তরের আধিকারিকদের সরাসরি যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য অনিয়ম বা ভুলত্রুটি ধরা সম্ভব হবে যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের মতে, এই নতুন পদ্ধতি চালু হলে আবাস প্রকল্পে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও অনেকাংশে কমবে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, স্বচ্ছ ও নির্ভুল উপভোক্তা তালিকা তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সমগ্র সমীক্ষা এবং যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যপূরণে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।

Abas Yojana
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy