কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের চারটি জেলায় আবহাওয়ার কমলা সতর্কতা জারি করল আলিপুর হাওয়া অফিস। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ দেওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, দু’তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভিজতে পারে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা ও শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বেলার দিকে চারদিক কালো করে আসে। তার পর শুরু হয় বৃষ্টি।
শহরের বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। দমদম, কেষ্টপুর, বাগুইআটি, বিমানবন্দর এলাকায় বৃষ্টি নেমেছে মুষলধারে। সঙ্গে রয়েছে মেঘের গর্জন। চার জেলায় ঝড়বৃষ্টির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুন:
বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকতে বলেছেন আবহবিদেরা। যাবতীয় বৈদ্যুতিক ডিভাইসের প্লাগ আগে থেকে খুলে রাখতে বলা হয়েছে। ঝড়বৃষ্টি এবং বজ্রপাতে ফলসের ক্ষতি হতে পারে।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে শনিবার ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিল হাওয়া অফিস। এ ছাড়া, দক্ষিণের সাতটি জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া। এর মধ্যে নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতে শুক্রবার পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টি চলবে।
দক্ষিণ ভারতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা প্রবেশ করেছে। উত্তরপ্রদেশের পূর্ব দিকে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ১.৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া, উত্তরবঙ্গ এবং সংলগ্ন বিহারের উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে।