বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরিকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হল। ফোনে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তার পরই সেই ফোন ট্র্যাক করা শুরু করে মুঙ্গের পুলিশ। অভিযুক্তের হদিস পাওয়া যায় গুজরাতের সানন্দে। সেখান থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম শেখর যাদব। তিনি বিহারের বাঁকা জেলার বাসিন্দা। ট্রানজ়িট রিমান্ডে শেখরকে বিহারে নিয়ে আসছে পুলিশ। এই প্রথম নয়, এর আগেও সম্রাটকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। গত বছরের জুলাইয়ে সম্রাটকে খুনের হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠানো হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্রাট চৌধরিকে গুলি করে মারব।’’ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আবার সম্রাটকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হল।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন সম্রাট। নীতীশ কুমারের বিরোধী থেকে হয়েছিলেন তাঁরই ‘ডেপুটি’। দীর্ঘ দিন শাসকজোটের শরিক থাকলেও বিহারে এর আগে কখনও বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হননি। সেই দিক থেকে দেখলে বিজেপির তরফে সম্রাটই প্রথম কেউ, যিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।
সম্রাটের কাছে রাজনীতি এবং মন্ত্রিত্ব— কোনওটাই নতুন নয়। সম্রাটের পিতা শকুনি চৌধরি এক সময় সমতা পার্টির সাংসদ ছিলেন। আর মা পার্বতী দেবী ছিলেন ওই দলেরই বিধায়ক। পরে অবশ্য তাঁরা লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডিতে যোগ দেন। আর পিতা-মাতার রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করেই লালুর দলে যোগ দেন সম্রাট। লালু-পত্নী রাবড়ি দেবী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়, ১৯৯৯ সালে কৃষিমন্ত্রী হয়েছিলেন সম্রাট।
২০০০ সালে আরজেডি পুনর্বার জয়ী হওয়ার পর ফের মন্ত্রী হন সম্রাট। সে বার অবশ্য তিনি পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদই শেষ করতে পেরেছিলেন। ২০০৫ এবং ২০১০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির পরাজয়ের পরেও দলীয় আনুগত্য বদলাননি সম্রাট। ২০১৪ সালে দলের শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে নীতীশের দল জেডিইউ-তে যোগ দেন তিনি।