পাঁচ বছর আগে সীমান্ত রক্ষাবাহিনীর (বিএসএফ) এক্তিয়ার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কে প্রবল জলঘোলা হতে দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, চলতি বাজেট অধিবেশনের শেষ দিকে বিএসএফ-এর টহলদারির অধিকার আরও বাড়ানোর বিষয়টিকে সামনে রেখে বিল আনার ভাবনা শুরু করেছে মোদী সরকার। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বার্তাবহ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা থেকে ১৫ কিলোমিটার ভিতর পর্যন্ত বিএসএফের টহল দেওয়ার কথা। সেই পরিধি বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব ও অসমে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে, ২০২১ সালের অক্টোবরে। এ বার তা ১০০ কিলোমিটার করা হতে পারে বলে খবর। তবে রাজনৈতিক সূত্রের মতে, গোটা সীমান্তের জন্যই এই ১০০ কিলোমিটার পরিধি কার্যকর হবে না। স্থান বিশেষে, আইনশৃঙ্খলা এবং অনুপ্রবেশের হিসাব অনুযায়ী কিছু কিছু এলাকায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত টহলদারির অধিকার দেওয়া হতে পারে বিএসএফ-কে।
কেন্দ্রের যুক্তি, ক্রমাগত অনুপ্রবেশে অসম, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলির সীমান্তবর্তী এলাকার জনসংখ্যার বিন্যাস পাল্টে গিয়েছে। সেই কারণে স্থানীয় পুলিশকে আরও বেশি করে সাহায্যকরতে এই চিন্তাভাবনা কেন্দ্রের। এর আগে বিএসএফের তৎকালীন ডিজি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, “দীর্ঘ সময় ধরে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জনসংখ্যায় বড় মাপের পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছে। সীমান্ত লাগোয়া কিছু জেলায় পাল্টে গিয়েছে ভোটারদের ‘প্যাটার্ন’।” জনসংখ্যার চরিত্র বদল নিয়ে সমীক্ষাও করেছিল বিএসএফ।
রাজ্যের বক্তব্য, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বিএসএফ আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ২১৬৪.৭১ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত। এ রাজ্যের আয়তন ৮৮,৭৫২ বর্গ কিলোমিটার। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মানতে হলে ধরে নিতে হবে, সেই আয়তনের মধ্যে বিপুল এলাকাই বিএসএফের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। এটা রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপের শামিল।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের আইন মোতাবেক নিজের রাজ্যে কোনও অপরাধের তদন্ত করার অধিকার রয়েছে রাজ্য পুলিশের। সংবিধানের সপ্তম তফসিলও তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্যের নাগরিক এবং পুলিশি ক্ষমতা খর্ব করা যায় না। তৃণমূলের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। অন্য দিকে বিএসএফের তরফে দাবি করা হয়, অন্য ছ’টি আধাসামরিক বাহিনীর মতোই তল্লাশি ও আটক করার অধিকার তাদের আগে থেকেই রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরে তদন্ত করার অধিকার আগের মতোই রাজ্য পুলিশের হাতেই থাকবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)