৭২ ঘণ্টা ধরে টানাপড়েনের পরেও বিহারের আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমাধান সূত্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হল বিজেপি ও চিরাগ পাসোয়ানের দল এলজেপি। যার ফলে সেখানে বিজেপির নিজেদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও থমকে গিয়েছে। সূত্রের দাবি, সব ঠিক থাকলে আগামী সোমবার বিহার বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা সামনে আসতে পারে।
পাঁচটি লোকসভা আসন জেতার পর এলজেপি এ বার বিধানসভা ভোটে ৪০টি আসনে লড়তে চেয়েছে। কারণ, চিরাগের লক্ষ্যই হল অন্তত ৩০টি আসনে জিতে ‘কিংমেকার’ হওয়া। যাতে ভবিষ্যতে দর কষাকষির পরিস্থিতি হলে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদটি নিজের জন্য নিশ্চিত করা যায়। সূত্রের মতে, আজকের বৈঠকে চিরাগের দল থেকে এক জনকে রাজ্যসভা ও আর এক জনকে বিহার বিধান পরিষদের সদস্য করার প্রস্তাব দেন প্রদেশ বিজেপি নেতা নিত্যানন্দ রাই। তার পরেই ২৬টি আসনে লড়তে রাজি হন চিরাগ। কিন্তু সূত্রের মতে, চিরাগ গোবিন্দগঞ্জ, মোতিবানি ও সিকান্দ্রা কেন্দ্রে লড়ার প্রশ্নে অনড়। কিন্তু সেগুলি সবই এনডিএ-র শরিকদের জেতা আসন। তারাও ওই আসনগুলি ছাড়তে নারাজ। ফলে আজ নিত্যানন্দের সঙ্গে চিরাগের বৈঠকের পরেও সমাধান সূত্র মেলেনি।
এই টানাপড়েনের প্রভাব পড়েছে বিজেপির নিজস্ব প্রার্থী তালিকা ঘোষণায়। চিরাগের অনড় মনোভাবের কারণে প্রার্থীতালিকা চূড়ান্তের কাজ আটকে। আগামিকাল রাজ্য নেতৃত্বকে দিল্লিতে ডেকেছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা। বিজেপি সূত্রের মতে, রবিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করতে বসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে সোমবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে দল।
অন্য দিকে, বিরোধীদের ‘মহাগঠবন্ধন’-এর আসন রফা নিয়ে জট ছাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন, বিহারের প্রথম দফার ভোটের জন্য দু’একদিনের মধ্যেই বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া-র শরিকদের আসন ভাগাভাগি ও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা সম্ভব হবে। এই বিষয় নিয়ে শুক্রবার পটনায় দু’দফায় আরজেডি বৈঠক করে। তার পরে লালুপ্রসাদকেই আসন সমঝোতা এবং দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস এখনও ৬০টি আসনে লড়ার দাবিতে অনড়। কিন্তু আরজেডি কংগ্রেসকে ৫৮টির বেশি আসন দিতে নারাজ। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ৩৬টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। কংগ্রেস চায়, মুকেশ সাহনীর বিকাশশীল ইনসান পার্টিকে আসন দিতে নিজেদের আসনের ভাগ কমাক আরজেডি। কংগ্রেসের তিন পর্যবেক্ষক অশোক গহলৌত, ভূপেন্দ্র বঘেল ও অধীর চৌধুরীকে বিহারের জেলাগুলির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। অধীরের দায়িত্বে ১০টি জেলা।
সিপিএম, সিপিআই ও সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের তিন সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, ডি রাজা এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্য তাঁদের ভাগের আসনের জন্য কথা বলেছেন তেজস্বী যাদবের সঙ্গে। লিবারেশনের গতবারের লড়া ১৯টির সঙ্গে আরও ৪-৫টি আসন বাড়াতে পারে আরজেডি। কিন্তু অন্য দুই বাম দলের জন্য তেজস্বী আসন বাড়াতে নারাজ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)