আয়তনে বাড়ছে দল। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন নতুন রাজ্যে গেরুয়া পতাকা উড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের নিয়ন্ত্রণ রাশ মজুবত করতে দলের সাংগঠনিক খোলনলচে পাল্টানোর কথা ভাবছেন বিজেপি নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, দলের সাংগঠনিক রদবদল আসন্ন। তাতে দলীয় সংগঠনকে নতুন চেহারা দেওয়ার কথা ভাবছে পদ্মশিবির।
বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, আড়ে-বহরে বাড়ছে দল। তাই বর্তমানে যে সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। ফলে দলে কেন্দ্রীয় পদাধিকারীর সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করার কথা ভাবা হয়েছে। সদস্য সংখ্যা বাড়তে পরে জাতীয় কর্মসমিতি কমিটিতেও। দাবি উঠেছে বিজেপির সংসদীয় বোর্ডেও সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হোক।
সূত্রের মতে, বর্তমানে সংসদীয় বোর্ডে ১২ জন রয়েছেন, সেই সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে সংসদীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দলের আরও কিছু নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিজেপিকে পরামর্শ দিয়েছেন আরএসএস নেতৃত্ব। সূত্রের মতে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে যাতে সংসদীয় বোর্ডে নেওয়া হয়, সে জন্য বার্তা দিয়েছে আরএসএস।
আরএসএসে যেমন বিভিন্ন এলাকার সাংগঠনিক কাজ দেখার জন্য ক্ষেত্র প্রচারক রয়েছেন, কতকটা সেই ধাঁচে অঞ্চল ভেদে এক এক জন সংসদীয় বোর্ডের সদস্যকে দেশের বিভিন্ন এলাকা তথা এক বা একাধিক রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। গোটা দেশে এমন আট থেকে দশ জন নেতাকে বেছে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। যাঁরা একাধারে সংসদীয় বোর্ডের সদস্য থাকবেন, তেমনই আবার বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা দলের কাজকর্মে গতি আনার পাশাপাশি, আঞ্চলিক স্তরের নেতা-কর্মীদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। প্রয়োজনে কোনও অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে, তা কেন্দ্রীয় কমিটির সামনে উপস্থিত করবেন, ওই আঞ্চলিক দায়িত্বে থাকা নেতারা।
সূত্রের মতে, সংগঠনে মহিলাদের আরও গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে। সংসদে গত এপ্রিলে মহিলা আসন সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাশ করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের। মূলত ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলারা যাতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ পান, সেই লক্ষ্যেই তড়িঘড়ি করে ওই বিল আনা হয়েছিল। কেবল লোকসভাতেই নয়, দল যে সাংগঠনিক স্তরে মহিলাদের ক্ষমতায়নের পক্ষে, সেই বার্তা দিতেও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে মহিলাদের জায়গা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)