ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ চলছে মধ্যপ্রদেশে। কিন্তু বিজেপিশাসিত এই রাজ্যে এসআইআর কাজে ‘অনিয়মের’ অভিযোগ উঠল। বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) সঙ্গে আরএসএস এবং বিজেপি কর্মীদের সহকারী হিসাবে নিযুক্ত করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মধ্যে ভুল স্বীকার করলেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক।
মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলায় বিএলও-দের সহকারী হিসাবে আরএসএস এবং বিজেপি কর্মীদের কেন নিয়োগ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী শিবির এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলে। কংগ্রেসের অভিযোগ, শাসকদল (বিজেপি) এ ভাবে বিএলও-দের কাজে দখলদারি করছে। নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে তারা। অন্তত চার জন বিএলও সহকারীর নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস।
বিতর্কের মধ্যে পড়ে সাফাই দেন দাতিয়ার জেলাশাসক স্বপ্নিল ওয়াংখেড়ে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে তিনি জানিয়েছেন, বিএলও সহকারীদের তালিকায় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত তিন জনের নাম ‘ভুলবশত’ রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘আমি এই নির্দেশনামা জারি করিনি। দাতিয়ার মহকুমাশাসক এটি জারি করেছিলেন। সেখানেই তিনটি নাম ভুলবশত যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’’ তিনি আরও জানান, এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। কী ভাবে এই ভুল হল, তা মহকুমাশাসককে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যে তিন নাম নিয়ে বিতর্ক, তার মধ্যে এক জনের নাম পটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিজেপিতে কোনও পদে নেই। আমি দলের এক নিচুস্তরের কর্মী। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’’ রবি রাজা নামে আর এক জন জানিয়েছেন, তিনি কোনও ভাবেই বিজেপি বা আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত নন। এসআইআরের কাজে বিএলও-কে সাহায্য করার জন্য তাঁকে বাছা হয়েছিল।
মধ্যপ্রদেশের বিজেপির মুখপাত্র শিবম শুল্কা এ প্রসঙ্গে জানান, এসআইআর দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে হচ্ছে। সেখানে এমন কিছু সমস্যা আসতে পারে। বিজেপি বিশ্বাস করে এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ হওয়া উচিত।