Advertisement
E-Paper

বিপর্যয়ের আতঙ্কে উত্তর প্রদেশে ‘দলিত ব্রিগেড’ বানাতে হচ্ছে বিজেপিকে

ক্ষত মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশের বুথে বুথে ‘দলিত-ব্রিগেড’ তৈরির নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপি সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরে দলিত-নিগ্রহের ঘটনায় যে ভাবে বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাতে উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে দল।

দিগন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ১৪:০৫
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।—ফাইল চিত্র।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।—ফাইল চিত্র।

ক্ষত মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশের বুথে বুথে ‘দলিত-ব্রিগেড’ তৈরির নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিজেপি সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরে দলিত-নিগ্রহের ঘটনায় যে ভাবে বিজেপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাতে উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে দল। আগরায় যে ময়দানে দলিত-নেত্রী মায়াবতী কয়েক লক্ষ দলিতকে জড়ো করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন, সেখানে চল্লিশ হাজার দলিতকেও জড়ো করতে পারেনি বিজেপি। যে কারণে খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সভা বাতিল করতে হয়েছে। এই ধাক্কা সামলাতে এ বার বিজেপির সমর্থিত দলিত কর্মীদের নিয়ে বুথে বুথে একটি ‘ব্রিগেড’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে এই কর্মীরা বিজেপির বিরুদ্ধ-প্রচার মোকাবিলা করবেন। আজ, শনিবার লখনউতে গিয়ে এর রোডম্যাপ দলের নেতাদের বলেছেন অমিত শাহ।

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, যে ভাবে বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে বিজেপির গায়ে ‘দলিত-বিরোধী’ তকমা সেঁটে দিয়েছে, তাতে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে। স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিতেও রক্ষা হয়নি। কালও এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীকে ফের নিজেকে ‘দলিত-দরদী’ বলে তুলে ধরতে হয়েছে। উল্টে বিরোধীদের দিকে পাল্টা তির ছুঁড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘যাঁরা চাননি আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসুক, তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। এই স্বঘোষিত ঠেকাদাররা দেখছেন, মোদী দলিত-আদিবাসী-পিছিয়ে পড়া মানুষদের সঙ্গে সঙ্গে আছে। জাতপাতের বিষ ছড়িয়ে তাঁরাই দেশকে নষ্ট করছেন। এটি একটি সামাজিক সমস্যা, সেটির রাজনৈতিক রং দিচ্ছেন।’’

আরও পড়ুন...
মুখ ফিরিয়ে হুরিয়ত, তাদের চেয়েই চাপ

বিজেপির আরও সমস্যা সম্প্রতি বাড়িয়ে তুলেছেন রাহুল গাঁধী। সুপ্রিম কোর্টে আরএসএসের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে গিয়ে মানহানি মামলার শুনানিতে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। সেই মামলা গাঁধী-হত্যা নিয়ে আরএসএসের বিরুদ্ধে তাঁর মন্তব্য নিয়ে হলেও, আসলে রাহুল গাঁধী লড়াইটি ‘আসল হিন্দু’ বনাম ‘নকল হিন্দু’তে নিয়ে যেতে চাইছেন। যে ভাবে উত্তরপ্রদেশে আরএসএস-বিজেপি সব হিন্দুদের এক ছাতার তলায় এনে দলিত-উচ্চবর্ণকে একজোট করতে চাইছে, রাহুল গাঁধী সুকৌশলে সেখানেই আঘাত হানতে চাইছেন। তাঁর বক্তব্য, নাথুরাম গডসে আসল হিন্দু হলে কোনও দিন মহাত্মা গাঁধীকে হত্যা করতেন না। আরএসএসের বিচারধারার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেই তিনি আসল হিন্দু নন। রাহুলের আইনজীবী কপিল সিব্বল তাই বলেছেন, ‘‘আমিও হিন্দু। কিন্তু আমি আরএসএসের বিচারধারার সঙ্গে নেই।’’

কংগ্রেসের এক নেতা জানান, সামনের মঙ্গলবার থেকেই উত্তরপ্রদেশে প্রায় এক মাসের ‘মহাযাত্রা’ শুরু করছেন রাহুল গাঁধী। সেখানে এই বার্তাই তিনি রাজ্যের অলিতে-গলিতে তুলে ধরবেন। বিজেপির আশঙ্কা, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের সংগঠন তেমন মজবুত নয় উত্তরপ্রদেশে। কিন্তু গোটা রাজ্য ঘুরে রাহুল গাঁধী যদি বিজেপির বিরুদ্ধে ‘দলিত-বিরোধী’ প্রচারকে আরও তুঙ্গে নিয়ে যান, তাহলে বাকি বিরোধী দলগুলিও এটিকে আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিজেপিকেও আরও সাফাই দিয়ে যেতে হবে নিরন্তর। ভোটব্যাঙ্কেও তার ছাপ পড়বে। ভোট যত এগিয়ে আসবে, ততই এই প্রচার আরও তীব্র হবে। সে কারণে এখন থেকেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দলের দলিত কর্মীদের দিয়েই পাল্টা ব্রিগেড তৈরি করার কৌশল নিতে হচ্ছে।

Uttar Pradesh Dalit Brigade BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy