বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পরেই বিহারে ভাঙনের মুখে এনডিএ-র শরিকদল রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক মোর্চা (আরএলএম)। বৃহস্পতিবার দলের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশওয়াহার বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র কায়েম করার অভিযোগ তুলে পদ ছেড়েছেন সহ-সভাপতি মহেন্দ্র কুশওয়াহা, সাধারণ সম্পাদক জিতেন্দ্র নাথ, মুখপাত্র রাহুল কুমার-সহ সাত জন প্রথম সারির নেতা। দলত্যাগের বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় এ বার একটি আসন পেয়েছে আরএলএম। উপেন্দ্র মন্ত্রী করেছেন তাঁর পুত্র দীপককে। তিনি বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্য নন। এমনকি, কোনওদিন সক্রিয় রাজনীতি করেননি বলেও অভিযোগ। আর তা নিয়েই অসন্তোষ দানা বেঁধেছে দলে। মহেন্দ্র বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘সমাজবাদী আদর্শ থেকে উপেন্দ্র বিচ্যুত। এখন তিনি সংগঠনে পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চাইছেন।’’ এ বারের বিধানসভা ভোটে বিজেপি, জেডিইউ, এলজেপি (রামবিলাস) এবং ‘হিন্দুস্থানি আওয়াম মোর্চা’র সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ছ’টি আসনে লড়েছিল উপেন্দ্রর দল। তার মধ্যে চারটিতে জয়ী হন দলীয় প্রার্থীরা। কিন্তু নবনির্বাচিত বিধায়কদের কেউ মন্ত্রিত্ব না-পাওয়ায় পরিষদীয় দলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।
লালুপ্রসাদের জমনায় বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ছিলেন উপেন্দ্র। পরিচিত ছিলেন নীতীশ কুমারের ‘ডানহাত’ হিসেবে। নীথীশের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালে জেডিইউ ছেড়ে নতুন দল রাষ্ট্রীয় লোকসমতা পার্টি গড়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন কৈরি-কুশওয়াহা জনগোষ্ঠীর এই নেতা। লোকসভা ভোটে জিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধনে যোগ দেন তিনি। ২০২০ সালে বিহার বিধানসভা ভোটের পর জেডিইউ-তে ফিরলেও বেশিদিন নীতীশের সঙ্গে বনিবনা হয়নি উপেন্দ্রর। তবে ২০২৩ সালে নতুন দল আরএলএম গড়লেও এনডিএ-তেই থেকে যান। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে হেরে গেলেও উপেন্দ্রকে রাজ্যসভার সাংসদ করে বিজেপি।