বেলডাঙার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নেপথ্যে কি কোনও সুপরিকল্পিত ডিজিটাল ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল? উত্তপ্ত পরিস্থিতির পিছনে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক পোস্টের ভূমিকা কতখানি, তা খতিয়ে দেখতে এ বার কোমর বেঁধে মাঠে নামল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোমবার তদন্তের স্বার্থে বহরমপুরে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় গেলেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলির গতিবিধি খতিয়ে দেখতে দীর্ঘক্ষণ সেখানে নথিপত্র পরীক্ষা করেন তাঁরা।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, বেলডাঙার ঘটনার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক বিতর্কিত পোস্ট ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, এই ধরনের বার্তার মাধ্যমেই উত্তেজনা আরও বাড়ানো হয়েছিল। এনআইএ-র গোয়েন্দারা মূলত জানতে চান, ওই সমস্ত পোস্টের উৎস কোথায় এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না। সোমবার সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে আধিকারিকেরা নির্দিষ্ট কিছু আইপি অ্যাড্রেস এবং সমাজমাধ্যমে ব্যাবহারকারীদের হ্যান্ডল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ঘটনার সময়কার ডিজিটাল তথ্য এবং পুলিশি পদক্ষেপের নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই বেলডাঙার অশান্তির তদন্তভার এনআইএ-র হাতে যাওয়ার পর থেকেই ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান জোরদার হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, কেবল স্থানীয় আবেগ নয়, পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল উসকানি ছড়িয়েই অশান্তির আগুন জ্বালানো হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা নির্ধারণ করতেই সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই ডিজিটাল তদন্তের মাধ্যমে কোনও ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর হদিস মেলে কি না, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।