Advertisement
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
National news

অনলাইন গেম চ্যালেঞ্জ! জিততে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী ছাত্র

নিবার মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে এই ঘটনা ঘটে। ইউরোপ এবং রাশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলিতে এই অনলাইন গেম খেলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেও ভারতে এই ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০১৭ ১৯:৩৯
Share: Save:

এ খেলায় জেতাই হার!

Advertisement

অনলাইন গেম ব্লু হোয়েল। ৫০টি ধাপ। যার সর্ব শেষ পরিণতি মৃত্যু। এমনই একটা অনলাইন গেম চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল ১৪ বছরের এক পড়ুয়া! প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই অনুমান পুলিশের।

শনিবার মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে এই ঘটনা ঘটে। ইউরোপ এবং রাশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলিতে এই অনলাইন গেম খেলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেও ভারতে এই ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্লু হোয়েল বিপজ্জনক, কেন্দ্রকে চিঠি দিচ্ছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, নবম শ্রেণির ওই ছাত্র আন্ধেরির একটি নামী স্কুলে পড়ত। বাবা-মা আর দুই বোনের সঙ্গেই সে থাকত। এক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকে জানান, ওই দিন ঘটনার ঠিক আগেই সে সাত তলার ছাদে ওঠে। কিছু ক্ষণ পায়চারি করা পর ছাদের একদম প্রান্তে দাঁড়িয়ে মোবাইলে সেলফি তোলে আর তার পরেই ঝাঁপ দেয়।

আরও পড়ুন: ১৩০ জনের আত্মহত্যার জন্য দায়ী এই অনলাইন গেম!

এর আগেও এই অনলাইন গেমের জন্য বিশ্ব জুড়ে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা নজরে এসেছে পুলিশের। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসে রাশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১৬ জন তরুণী এই গেমে আসক্ত হয়ে আত্মহত্যা করেন। তার পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে এই মারণ গেম পেজের অ্যাডমিন ফিলিপ বুদেকিন নামে রাশিয়ার ২১ বছরের এক যুবক। ফিলিপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। কিন্তু ফিলিপকে গ্রেফতার করলেও এই পেজটি এখনও সচল।

আরও পড়ুন: ব্লু হোয়েল তো বটেই, ভয়ঙ্কর এই অনলাইন গেমগুলি থেকেও সাবধান থাকুন

কী এই ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম?

এটি একটি অনলাইন গেম। এই গেমে প্রতিযোগীদের মোট ৫০টি আত্মনির্যাতনমূলক লেভেল কমপ্লিট করতে হয়। সেই সমস্ত লেভেল ও তার টাস্কগুলি খুবই ভয়ঙ্কর। গেম যত এগোতে থাকবে টাস্কগুলি অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হতে থাকবে। কিন্তু প্রথম দিকের ধাপগুলি অপেক্ষাকৃত কম ভয়ঙ্কর হওয়ায় টাস্কগুলি বেশ মজার। আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। পরে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বেরোতে পারে না।

কেমন সেই আত্মনির্যাতনমূলক টাস্ক? কোনও লেভেলে হয়তো নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের শরীরে একাধিক সূচ বিঁধতে। কোনও লেভেলে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের হাতকে রক্তাক্ত করতে। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা।

এই টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হল আত্মহনন।

এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনও ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.