Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০১ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

ভীমা কোরেগাঁও মামলা: খোদ বিচারকের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৭ জুলাই ২০২১ ০৬:৪৩
বম্বে হাই কোর্ট।

বম্বে হাই কোর্ট।
ফাইল ছবি।

জেল হেফাজতে ৮৪ বছর বয়সি অশীতিপর পাদ্রি স্ট্যান স্বামীর মৃত্যুর পরের দিনই নতুন মোড় নিল ভীমা কোরেগাঁও-মাওবাদী যোগের ষড়যন্ত্র মামলা। বম্বে হাই কোর্টে আজ এই মামলায় আর এক অভিযুক্ত সুধা ভরদ্বাজের জামিনের শুনানির সময়ে দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারকের ‘বিচার করার যোগ্যতা’ নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তথ্যের অধিকার আইনে বম্বে হাই কোর্ট থেকে পাওয়া তথ্যকে হাতিয়ার করে সুধার আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, যে মামলার বিচার বিশেষ বিচারকেরাই করতে পারেন, সেখানে বিচারের ভার দেওয়া হয়েছে দায়রা আদালতের অতিরিক্ত বিচারক কে ডি ভাদানেকে। তিনিই সুধাকে চার্জশিট দেওয়ার জন্য পুণে পুলিশকে অতিরিক্ত সময় ধার্য করেছেন, এমনকি চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। যা ওই বিচারকের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসায় বম্বে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রি থেকে ভাদানের পেশাগত যোগ্যতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন বিচারপতিরা।

বিশিষ্ট আইনজীবী, কোরেগাঁও মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুধা ভরদ্বাজ বর্তমানে মহারাষ্ট্রের বাইকুল্লা জেলে বন্দি। বম্বে হাই কোর্টে বিচারপতি এস এস শিন্ডে ও বিচারপতি এন জে জমাদারের ডিভিশন বেঞ্চে তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি ছিল আজ। সুধার আইনজীবী যুগ চৌধরি আদালতে জানান, ভীমা কোরেগাঁও মামলায় বিচারক ভাদানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি পুণে পুলিশকে চার্জশিট দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ৯০ দিনের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৮০ দিন ধার্য করেছেন। আবার চার্জশিট পেশের পর ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর সেটি গ্রহণ করে বিচার প্রক্রিয়া চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সুধার আইনজীবী হাই কোর্টের বিচারপতিদের দেখান, দু’টি নির্দেশেই সই করেছেন ওই বিচারক। যার একটিতে ভাদানের পদ লেখা হয়েছে, ‘বিশেষ বিচারক’ অন্যটিতে ‘বিশেষ ইউএপিএ বিচারক’। চৌধরি আরও জানান, তথ্যের অধিকার আইনে হাই কোর্ট থেকে পাওয়া জবাবে দেখা যাচ্ছে— ভাদানে অতিরিক্ত বিচারক পদে কর্মরত, তিনি বিশেষ বিচারক নন। একই সঙ্গে সুধার আইনজীবীর দাবি, ইউএপিএ আইনে বন্দিদের বিচারের জন্য কোনও বিশেষ আদালত তৈরি করা হয়নি বা এ জন্য বিশেষ বিচারকও নেই। যশের যুক্তি, ভাদানে যে নির্দেশগুলি দিয়েছেন, সেগুলি এনআইএ আদালতের বিচারকেরাই দিতে পারেন। ফলে তাঁর প্রশ্ন, ভাদানের মতো একজন অতিরিক্ত বিচারক বিচারের দায়িত্বে এলেন কী ভাবে? কোরেগাঁও মামলাকে যখন অন্য বিচারকদের সামনে নিয়ে যাওয়া যেত, তখন অতিরিক্ত

বিচারক ভাদানেকে কেন এর দায়িত্বে আনা হল, তার ব্যাখ্যা মহারাষ্ট্র সরকারকে দিতে হবে বলেই সওয়াল করেন সুধার আইনজীবী।

Advertisement

যশ বলেন, ‘‘আমাদের যুক্তি যদি প্রাথমিক ভাবে সত্যি বলে মনে হয়, সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তের জামিন বাতিল করতে ওই বিচারকের নির্দেশ, পুলিশকে চার্জশিট দিতে অতিরিক্ত সময় ধার্য করা কিংবা সেই চার্জশিট গ্রহণ করতে তাঁর নির্দেশ— সবটাই আইনবিরুদ্ধ। এটাও স্পষ্ট হয়ে যাবে, ভরদ্বাজ ও অন্য অভিযুক্তদের অবৈধ ভাবে বন্দি করা হয়েছে।’’ যুগ বলেন, মহারাষ্ট্র সরকার এ ব্যাপারে কোনও জবাব দেয়নি। আর এই মুহূর্তে তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থা এনআইএ আদালতে যে জবাব দিয়েছে, তাতেও ভাদানে প্রসঙ্গের উল্লেখ নেই। হাই কোর্টের বিচারপতিরা তখন জানান, সুধার আইনজীবী আরটিআই-এর যে তথ্য আদালতে পেশ করেছেন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন না তাঁরা। তবে বিচারক ভাদানে সম্পর্কে তথ্যগুলি তাঁরা স্বাধীন ভাবে খতিয়ে দেখতে চান। ভাদানের নিয়োগপত্র, পদ সম্পর্কে তথ্য পেশ করতে হাই কোর্টের রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেন বিচারপতিরা। তাঁরা জানান, সরকার যে হেতু এ ব্যাপারে তথ্য দিতে পারেনি, ফলে এখন তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে চাইলে তারা ওই বিচারকের নিয়োগপত্র হাই কোর্টে পেশ করতে পারে। এ মাসের আট তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানি।

তাৎপর্যের বিষয় হল, শুধু সুধা ভরদ্বাজই নন, ভাদানের বিচারে প্রভাবিত হয়েছেন অন্য অভিযুক্ত সোমা সেন, রোনা উইলসন, ভারাভারা রাও, সুধীর ধাওলে, ভারনন গঞ্জালভেস, মহেশ রাউত, সুরেন্দ্র গ্যাডলিংয়েরাও। বিচারক সম্পর্কে একই অভিযোগ এনে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন গ্যাডলিং। ভরদ্বাজের মামলার সঙ্গে তাঁর মামলাকে যোগ করার আর্জি জানিয়েছেন গ্যাডলিংয়ের আইনজীবী। হাই কোর্ট আজ তাতে সম্মতি দিয়েছে। সুধার আইনজীবী আজ বম্বে হাই কোর্টে বলেন, ‘‘যথাযথ যোগ্যতা না থাকলেও যদি কোনও বিচারক নিজেকে যোগ্য হিসেবে দাবি করেন, আর তাঁর বিচারে অভিযুক্তদের জেলের ভিতরে কাটাতে হয়, তখন বিচারব্যবস্থার ভিত কেঁপে যায়।’’ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া বিচারক সম্পর্কে বিচারপতিরা এ বার কী রায় দেন, তার উপরেই নির্ভর করবে কোরেগাঁও মামলার ভবিষ্যৎ।

আরও পড়ুন

Advertisement