সংসদে আগামী সোমবার থেকে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। ওই দিন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের একাংশের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তাই আগামী ৯-১১মার্চ সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হুইপ জারি করল বিজেপি ও কংগ্রেস। অধিকাংশ বিরোধী দল অনাস্থা প্রস্তাবে সই করলেও, ব্যতিক্রম তৃণমূল। তাঁরা ওই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেনি।
বাজেট অধিবেশের গোড়া থেকেই স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের একাংশ। পরে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ আজ বলেন, ‘‘ওই অনাস্থা প্রস্তাবে ১১৫ জন বিরোধী সাংসদ সই করলেও, তৃণমূল কংগ্রেস করেনি। সরকার পক্ষ ইতিমধ্যেই বিরোধীদের জানিয়েছে যে, আগামী ৯ মার্চ বিষয়টি লোকসভায় উঠতে পারে। আশা করি সে দিন এ নিয়ে বিস্তারিতআলোচনা হবে।’’
সরকারি সূত্রের মতে, আলোচনার পরে ওই অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ভোটাভুটি হতে পারে। যা মাথায় রেখে বিজেপির লোকসভার সব সাংসদকে ৯-১১ মার্চ পর্যন্ত সংসদে উপস্থিত থাকতে বলেছে। একই ভাবে, লোকসভা সাংসদদের জন্য তিন দিনের হুইপ জারি করেছে কংগ্রেসও। সই না-করা নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, দল স্পিকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষপাতী ছিল। সে কথা কংগ্রেসকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস তড়িঘড়ি অনাস্থা প্রস্তাব স্পিকারের সচিবালয়ে জমা দেওয়ায় তৃণমূলের কিছু করার ছিল না।
তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনায় স্পিকারের চেয়ারে থাকবেন না ওম বিড়লা। অতীতে চারবার লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে। সে সময়ে বিতর্ক চলাকালীন স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু সরকারের কাছে এ মুহূর্তে বড় সমস্যা হল ডেপুটি স্পিকারের না থাকা। গত প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ওই পদ খালি। ফলে ওই দিন আলোচনার সময়ে স্পিকারের চেয়ার সামলানোর দায়িত্ব স্পিকার প্যানেলে থাকা কোনও সাংসদের উপরে ন্যস্ত হবে। আগামী দিনে একই সমস্যা দেখা দিতে পারে রাজ্যসভায়।
সংসদের উচ্চ কক্ষে বর্তমান ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংহের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৯ এপ্রিল। তাঁকে এ বার আর প্রার্থী করা হয়নি। ফলে আগামী দিনে লোকসভায় ডেপুটি স্পিকারের মতোই রাজ্যসভাতেও ডেপুটি চেয়ারম্যান বাছতে মাঠে নামতে হবে শাসক শিবিরকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)