অবশেষে গ্রেফতার হলেন ত্বিশা শর্মার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ। রক্ষাকবচ চেয়ে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ত্বিশার শাশুড়ি। কিন্তু তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। তার পর বৃহস্পতিবার সকালে গিরিবালার ভোপালের বাড়িতে হাজির হয় সিবিআই।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট গিরিবালার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বাড়িতে যায় সিবিআইয়ের একটি দল। দীর্ঘ ক্ষণ গিরিবালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে সিবিআই সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, ত্বিশার স্বামী সমর্থকে গ্রেফতার করা হলেও গিরিবালার বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ত্বিশার পরিবার। গ্রেফতারি এড়াতে গিরিবালা নিম্ন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তাঁর আর্জি মঞ্জুর করে।
প্রসঙ্গত, ত্বিশার মৃত্যুর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত তাঁর শাশুড়ি। পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার তিনটি পৃথক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি পণপ্রথা প্রতিরোধ আইনেও মামলা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে। এই মামলায় ভোপালের এক আদালত গিরিবালার আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিল। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা হয় হাই কোর্টে। কিন্তু সেই আগাম জামিন বাতিল করে দেয় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। ১৭ পাতার রায়ে বিচারক লিখেছেন, মামলার প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে আগাম জামিনের নির্দেশ বাতিল করা হচ্ছে।
গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের দাবি, ত্বিশা আত্মহত্যা করেছেন। তবে বাপেরবাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। পণের জন্য অত্যাচার চালানো হত বলেও অভিযোগ।