আভাস আগেই মিলেছিল। সেই মতোই এ বার আবগারি মামলায় নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার এক সূত্র সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছে, নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের যাওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত? ওই আধিকারিক জানান, সিবিআই মনে করে এই মামলায় হয় কিছু দিক উপেক্ষা করা হয়েছে, নয়তো পর্যাপ্ত ভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
শুক্রবার দিল্লির আদালত আবগারি দুর্নীতির মামলা থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া-সহ ২১ জনকে অব্যহতি দিয়েছে। সেই রায় নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনীতি রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তার মধ্যে সিবিআই এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লির উচ্চ আদালতে আবেদন করল।
কেজরীওয়ালদের অব্যাহতি দেওয়ার সময় শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ করে। কেজরীওয়ালের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জোরালো তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন। কিন্তু তেমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সিবিআইয়ের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় মূল চক্রান্তকারী ছিলেন কেজরীই। কিন্তু সেই অভিযোগের স্বপক্ষে তেমন জোরালো তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ সিবিআই। মণীশের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেনি, যা থেকে সিসৌদিয়ার অপরাধমূলক আচরণের কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অন্য অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রায়ই এমনই কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল নিম্ন আদালতের বিচারক জিতেন্দ্র সিংহের। এই ২১ জনের মধ্যে রয়েছেন বিআরএস নেতা কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা কে কবিতাও।
আরও পড়ুন:
নিম্ন আদালতের রায় শুনে কেঁদে ফেলেন কেজরীওয়াল। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা কুর্সি চান, ভাল কাজ করে সেটা অর্জন করুন। এ ভাবে দেশের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করবেন না। মণীশ সিসৌদিয়া সৎ, আম আদমি পার্টি সৎ।’’ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে যায় কেজরীওয়ালের দল আপ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, অন্য অনেক বিষয়ের সঙ্গে নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছিল এই আবগারি দুর্নীতির মামলা। সেই বিষয় উল্লেখ করে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের সুরে কেজরী বলেন, ‘‘দিল্লিতে এখনই ভোট হোক। বিজেপি যদি ১০টার বেশি আসন পায়, তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’