বড়দিনের আগে ছত্তীসগঢ়ের একটি শপিং মলে ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চালানোর দায়ে গ্রেফতার হওয়া বজরং দলের ছ’জন জামিন পেতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির সদস্যেরা। রীতিমতো বীরের সম্বর্ধনা দিয়ে মালা পরিয়ে, তাসা বাজিয়ে রাজপথে শোভাযাত্রা করা হল তাদের নিয়ে। এর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের অভিযোগ, একদল লোক মলের ভিতরে ঢুকে যথেচ্ছ ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চালানোর পরে মাত্র ছ’জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ এবং এমনই ধারা যোগ করেছিল যে ৫ দিনের মাথায় তারা জামিনও পেয়ে গেল!
গত কয়েক বছর ধরেই বড়দিনের আগে বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে বজরং দল-সহ আরএসএসের ঘনিষ্ঠ এবং সহযোগী কয়েকটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। গত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, উত্তরাখণ্ড-সহ নানা জায়গায় বড়দিনের আগে বিভিন্ন শপিং মলে তাণ্ডব, ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে গির্জায় প্রার্থনার সময় হামলাও চালিয়েছে তারা। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবল নিন্দা হলেও সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ এই সংগঠনগুলির দাপট কখনও কমেনি, বরং বেড়েছে।
চলতি বছরে বড়দিনের ঠিক আগে, ২৪ ডিসেম্বর রাজ্য জুড়ে বন্ধ ডেকেছিল একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। সে দিনই বিকেলে রাজধানী রায়পুরের জনপ্রিয় ম্যাগনেটো মল-এর ঢুকে তাণ্ডব চালায় বজরং দলের একাধিক সদস্য। বড়দিন উপলক্ষে সান্তা ক্লজ, রেনডিয়ার, স্লেজগাড়ি, ক্রিসমাস ট্রি দিয়ে সাজানো মল ভাঙচুর করার পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে ঢুকে হুমকিও দেয় তারা। এই ঘটনায় সমালোচনার মুখে রায়পুর পুলিশ নতুন চালু হওয়া ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে এবং পরের দিন জনা পাঁচেক বজরং দল সদস্যকে গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানিয়ে পথ অবরোধও করে সংগঠনটি, যদিও তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। গ্রেফতার হওয়ার পাঁচ দিন পরে স্থানীয় আদালত সবাইকেই জামিন দিলে উল্লাসে ফেটে পড়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সদস্যেরা। গোটা ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খ্রিস্টানদের বিভিন্ন সংগঠনও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)