E-Paper

মহিলা সংরক্ষণ বিল: বিরোধী বক্তব্য এড়িয়ে প্রশ্নোত্তর কেন্দ্রর

সংবিধান সংশোধন করে আনা নতুন মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের জন্য যথেষ্ট নম্বর ছিল না সরকারের কাছে। বিরোধীরা বলেছিলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের চেষ্টা হলে সমর্থন দেবেন না তাঁরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে অনেক কিছু নিয়েই। এই অবস্থায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘একতরফা’ প্রশ্নোত্তর প্রকাশ করল কেন্দ্র। সক্রিয় হল নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা বোঝাতে।

সংবিধান সংশোধন করে আনা নতুন মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের জন্য যথেষ্ট নম্বর ছিল না সরকারের কাছে। বিরোধীরা বলেছিলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের চেষ্টা হলে সমর্থন দেবেন না তাঁরা। স্বাভাবিক ভাবেই, লোকসভায় বিল পাশ হয়নি। এখন প্রশ্ন, বিরোধীদের সমর্থন পাওয়া মুশকিল জেনেও কেন হারা প্রতিযোগিতায় লড়তে নামলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা? কেন ওই বিল আনা হয়েছে, আজ তা স্পষ্ট করতে একটি প্রশ্নোত্তর প্রকাশ করেছে সরকার। পাশাপাশি বিল পাশে ব্যর্থ হয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে-র মতো দলগুলির ‘মহিলা বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরতে আজ, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বিজেপি নেতারা। দলের বক্তব্য, বিরোধীরা মহিলা-বিরোধী বলেই বিল পাশ করাতে দেয়নি। এর দাম দিতে হবে তাদের।

১৬-১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ বিল, তার সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস আইন ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধনী বিল আনে সরকার। দেশের বেশ ক’টি রাজ্যে ভোট চলাকালীন কেন তাড়াহুড়ো করে বিলগুলি আনা হল—এর জবাবে সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালে যে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়েছিল, তাতে ২০২৬ সালের পরে যে জনগণনা হবে, তার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস হওয়ার কথা। সেই নতুন আসনের ভিত্তিতে মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার কথা। কিন্তু জনগণনা ও তার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা সময়সাপেক্ষ। তাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই মহিলারা যাতে বঞ্চিত না হন, সে জন্য জনগণনার বিষয়টিকে আইন থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিলগুলি আনে সরকার।

বিরোধীদের পাল্টা বক্তব্য, সরকার সত্যিই মহিলাদের সংরক্ষণ আগ্রহী হলে বর্তমানের ৫৪৩টি আসনের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করুক। যদিও সেই প্রশ্নের জবাব সরকারি প্রশ্নোত্তরে নেই! তবে ঘরোয়া ভাবে বিজেপি নেতারা বলছেন, সে ক্ষেত্রে ১৮০টির কাছাকাছি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করতে হত। ফলে বহু পুরুষ সাংসদকে আসন হারাতে হত। যা সব দলের জন্যই সমস্যার। সরকারের পক্ষ থেকে সংসদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪৩ থেকে সর্বাধিক ৮৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারের ব্যাখ্যা, ১৯৭১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ৫৫ কোটি। যার ভিত্তিতে ১৯৭৬ সালে লোকসভার আসন সংখ্যা বেড়ে ৫৫০ করা হয়। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৪০ কোটি। তাই লোকসভার সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে সর্বাধিক ৮৫০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসন বাড়াতে প্রতিটি রাজ্যে আনুপাতিক বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে, বঞ্চনা এড়াতে প্রতিটি রাজ্যের আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। ফলে বর্ধিত আসন সংখ্যা ৮১৫ হওয়ার কথা। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, শতকরা হিসাবে প্রতিটি রাজ্যে সম-সংখ্যক আসন বাড়লেও, বড় রাজ্যগুলির মোট আসন ছোট রাজ্যগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি বাড়বে। যেমন, উত্তরপ্রদেশে ও কেরলে লোকসভা আসন রয়েছে যথাক্রমে ৮০টি ও ২০টি। আসন পার্থক্য ৬০। নতুন নিয়মে মোট আসনের অর্ধেক বৃদ্ধিতে উত্তরপ্রদেশ ও কেরলের আসন সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১২০ ও ৩০। দু’রাজ্যের আসনের ব্যবধান বেড়ে হবে ৯০। বিরোধীদের বক্তব্য, ওই সূত্রের মাধ্যমে বিজেপিশাসিত উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির লোকসভার আসন বাড়িয়ে নিয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতা ধরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিজেপি। বিরোধীদের মতে, এর ফলে দক্ষিণের ছোট রাজ্যগুলির কেন্দ্রে সরকার গঠনে ভূমিকা আরও হ্রাস পাবে। যদিও সরকারের যুক্তি, আদপেই তা হত না। বর্তমানে লোকসভায় দক্ষিণের প্রতিনিধিত্ব ২৩.৭৬%। ৫০ শতাংশ আসন বাড়লে সেই প্রতিনিধিত্ব বেড়ে হত ২৩.৮৭%।

নতুন আইন কার্যকর হলে তফসিলি জাতি ও জনজাতির প্রতিনিধিত্ব বাড়ত, দাবি কেন্দ্রের। বিধানসভাগুলিতেও তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেত। আরও দাবি, ওই বিলগুলির সঙ্গে জাতিগত জনগণনার সম্পর্ক নেই। যদিও বিরোধীদের দাবি, পুরনো আইন অনুযায়ী ২০২৬ সালের জনগণনায় ওবিসি সমাজের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে সরকারের। সে ক্ষেত্রে লোকসভায় জনসংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষণ দাবি করে সরব হত ওবিসি সমাজ। যা নিয়ে আপত্তি রয়েছে আরএসএসের। ওবিসি সমাজকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই তড়িঘড়ি তাই বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যদিও বিরোধীদের এই অভিযোগেরও জবাব ছিল না সরকারি প্রশ্নোত্তরে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

parliament Amendment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy