সমলিঙ্গ বিবাহ নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। হলফনামায় সমলিঙ্গ বিবাহের আইনি স্বীকৃতির বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, সমলিঙ্গ বিবাহ এবং অসমলিঙ্গ বিবাহের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। তাই দুটোকে এক ভাবে দেখা উচিত নয়। আরও বলা হয়েছে, সমলিঙ্গ সম্পর্কের স্বীকৃতি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, সমলিঙ্গ বিবাহকে স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে মোদী সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, অসমলিঙ্গ বিবাহের ‘সামাজিক মূল্য’ রয়েছে। দেশ, সমাজের ‘উন্নতি’র জন্য এই বিবাহের স্বীকৃতির প্রয়োজন থাকলেও অন্যটির নেই বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এ দেশে সমলিঙ্গ সম্পর্ক আর খাতায়কলমে ‘বেআইনি’ না হলেও, সমলিঙ্গ বিবাহের কোনও আইনি স্বীকৃতি এখনও অবধি এ দেশে নেই।
সোমবারই এই সংক্রান্ত মামলায় উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবে শীর্ষ আদালত। তার ঠিক এক দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাল কেন্দ্র। সমলিঙ্গ বিবাহের আইনি স্বীকৃতি চেয়ে একগুচ্ছ আবেদন জমা পড়েছিল দেশের বিভিন্ন আদালতে। গত ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত সব মামলাকে একত্রিত করার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে জানায় সমলিঙ্গ বিবাহের আইনি স্বীকৃতি সংক্রান্ত মামলা তারাই শুনবে। সোমবারই প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, পিএস নরসীমা এবং জেবি পারদিওয়ালার বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন:
আদালত গত ৬ জানুয়ারি যাবতীয় তথ্য, নথি, হলফনামা দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য মামলাকারীদের আইনজীবী অরুন্ধতী কাটজু এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কৌঁসুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত এ-ও জানিয়েছিল যে, উভয়পক্ষই নিজেদের বক্তব্যের সপক্ষে যে যে তথ্য দেবে, তা একত্রিত করে পুস্তকাকারে কোর্ট এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, আগামী ১৩ মার্চ (সোমবার) মামলাটি শুনানির জন্য নথিবদ্ধ রয়েছে।