জনগণনার সময়ে যে জাতগণনা হওয়ার কথা তার ফলকে নরেন্দ্র মোদী সরকার ঠান্ডা ঘরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, জাতগণনার তথ্য আগামী কয়েক বছরের জন্য পাওয়া যাবে না। সে জন্যই সংবিধানের ৩৩২-এ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
প্রায় পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালে লোকসভায় সরকার প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিল, সে সময়ে যে জনগণনার কাজ হওয়ার কথা ছিল তাতে কেবল তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতগণনার কোনও তথ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল না সরকারের। করোনা সংক্রমণের কারণে সে সময়ে অবশ্য জাতগণনার কাজ থমকে যায়। ফের এ বছর থেকে ওই কাজ শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে মূলত জাতগণনায় যদি দেখা যায় দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ওবিসি সমাজের প্রতিনিধি, সে ক্ষেত্রে সংরক্ষণের যে বর্তমান কাঠামো রয়েছে তা পরিবর্তনের দাবি উঠবে। মূলত ওবিসি সমাজ আরও বেশি করে সংরক্ষণের দাবি তুলবে। যাতে আপত্তি রয়েছে আরএসএসের।ফলে সেই সময়ে জাতগণনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যদিও বিরোধীরা তো বটেই, জাতগণনার পক্ষে সওয়াল করে সরব হয় চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি, চন্দ্রবাবু নায়ডুর মতো শরিক দলগুলি। আজ জয়রাম বলেন, ‘‘২০২৫ সালে পহেলগাম হামলার কয়েক দিন পরেই হঠাৎ করেই মোদী সরকার জাতগণনার কথা ঘোষণা করে।’’ বিরোধীদের চাপেই সরকার ওই মত পরিবর্তন করে বলে দাবি জয়রামের। তাঁর কথায়, ‘‘সম্প্রতি রেজিস্ট্রার জেনারেল জানিয়েছেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ হওয়ায় জনগণনার ফলাফল ২০২৭ সালের মধ্যেই জানা যাবে।’’
রমেশের দাবি, ‘‘জাতগণনার ফলাফল আগামী কয়েক বছরে যাতে জানা না যায় তা নিশ্চিত করতেই সংবিধানের ৩৩৪-এ অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনছে মোদী সরকার। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই মহিলাদের আসন সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু এখন মহিলাদের আসন সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করতে গিয়ে মহিলাদের আসন বৃদ্ধির বিষয়টি জনগণনা থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যে জনগণনায় জাতিগত গণনাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে চলেছে। যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে মোদী সরকার জাতগণনাকে ঠান্ডা ঘরে পাঠাতে চলেছে। অথচ, বিহার ও তেলঙ্গানাতে মাত্র ছ’মাসে জাতগণনার ফলাফল সামনে চলে এসেছিল। কিন্তু এখন জাতগণনার তথ্য দেরি করে পাওয়া যাবে, এই যুক্তি দেখিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)