E-Paper

ইতিহাস বিকৃতি-নালিশ, মোদীকে তির জয়রামের

মোদী-সহ বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের তোষণের লক্ষ্যে বন্দে মাতরম‌্ গানের দৈর্ঘ্যহ্রাসের মাধ্যমে দেশভাগের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৪
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।

ইতিহাসকে বিকৃত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘সবচেয়ে কুখ্যাত’ বলে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, সম্প্রতি সংসদে বন্দে মাতরম‌্ বিতর্কে মোদীর পরিকল্পনা ছিল, জওহরলাল নেহরুকে কালিমালিপ্ত করা। জয়রামের কথায়, “সংসদে আলোচনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তাঁর সতীর্থরা জাতীয় গানের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছিলেন। এতে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই অপমান করা হয়েছিল।”

মোদী-সহ বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের তোষণের লক্ষ্যে বন্দে মাতরম‌্ গানের দৈর্ঘ্যহ্রাসের মাধ্যমে দেশভাগের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে আজ নেতাজির ১২৯তম জন্মদিনে জয়রাম সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘বন্দে মাতরম‌্ গানের প্রথম দু’টি স্তবক রেখে বাকি অংশ না গাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যে বিতর্ক হয়েছিল, সুভাষচন্দ্র বসু তা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গিয়েছেন।”

নিজের বক্তব্যে ইতিহাসবিদ তথা সুভাষচন্দ্রের পৌত্র সুগত বসুর লেখার উদাহরণ তুলে ধরে জয়রাম বলেন, “নেতাজি ১৯৪২ সালে বার্লিনে ফ্রি ইন্ডিয়া সেন্টার খুলেছিলেন এবং জনগণমন-কে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়েছিলেন।” জয়রামের কথায়, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়লেই এ সব তথ্য জানা যায়। আসলে ইতিহাসকে বিকৃত করার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বিকল্পহীন।”

শাসক দল যে ভাবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধীর নাম সরিয়ে নিয়েছে, তারও আজ সমালোচনা করেছেন জয়রাম। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘...১৯৪৪ সালে একটি রেডিয়ো সম্প্রচারে মহাত্মা গান্ধীকে জাতির জনক বলে উল্লেখ করেছিলেন নেতাজি।’ জয়রামের অভিযোগ, সেই জাতির জনকের স্মৃতি ধীরে ধীরে মুছে দেওয়ার চেষ্টায় সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যার সর্বশেষ উদাহরণ মনরেগা থেকে গান্ধীর নাম সরিয়ে দেওয়া। পাল্টা আক্রমণে বিজেপি মুখপাত্র তুহিন সিন্‌হার বক্তব্য, “পরিবারকে বাঁচাতে কংগ্রেস নেতারা যে সক্রিয় হবেন, সেটাই স্বাভাবিক।”

আজ সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন উপলক্ষে মোদী বলেন, “নেতাজির প্রবল সাহস ও ভারতের স্বাধীনতার প্রতি নিষ্ঠা আজও অসংখ্য ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।” ২৩ জানুয়ারি উপলক্ষে ‘পরাক্রম দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠানটি হয় আন্দামান ও নিকোবরে। ভিডিয়ো-বার্তায় মোদী বলেন, “নেতাজি কেবল স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নায়কই ছিলেন না, তিনি স্বাধীন ভারতের অন্যতম রূপকারও ছিলেন।” বিভিন্ন বছরে তিনি কী ভাবে নেতাজির জন্মদিন পালন করেছিলেন, আজ সমাজমাধ্যম এক্সে সেই ছবি ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy