আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি-শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বার তার প্রভাব পড়ল ভারতের বিমান পরিষেবাতেও। জ্বালানির জন্য সারচার্জ নেওয়া শুরু করছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। আগামী ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে সকল অন্তর্দেশীয় বিমানের টিকিটের উপর ৩৯৯ টাকা করে সারচার্জ নেবে তারা। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রেও টিকিটের ভাড়া বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোট তিন দফায় এই সারচার্জ চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। বর্তমানে অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবায় জ্বালানির জন্য জন্য কোনও সারচার্জ নেওয়া হয় না। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ৩৯৯ টাকা করে সারচার্জ নেবে তারা। সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশ এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যের বিমান টিকিটেও এই সারচার্জ এত দিন নেওয়া হত না। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ ক্ষেত্রেও সারচার্জ নেওয়া হবে। সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে যাওয়ার বিমানে ৩৯৯ টাকা করে সারচার্জ নেওয়া হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যাওয়ার বিমানগুলিতেও ১০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০০ টাকা) সারচার্জ ধার্য হবে বৃহস্পতিবার থেকেই।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাওয়ার বিমানগুলিতে এত দিন ৪০ ডলার (প্রায় ৩৫০০ টাকা) সারচার্জ দিতে হত। নতুন নিয়মে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তা ৬০ ডলার (প্রায় ৫৫০০ টাকা) করা হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলিতে যেতে জ্বালানির জন্য এত দিন সারচার্জ দিতে হত ৬০ ডলার। এখন তা ৯০ ডলার (৮০০০ টাকারও বেশি) করে দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
প্রথম দফায় এই পরিবর্তনগুলির পরে আগামী ১৮ মার্চ থেকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানেও সারচার্জ বৃদ্ধি করছে তারা। ইউরোপগামী বিমানগুলির সারচার্জ এখন ১০০ ডলার (প্রায় ৯০০০ টাকা) রয়েছে। তা বৃদ্ধি করে ১২৫ ডলার (প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা) করা হবে। উত্তর আমেরিকাগামী এবং অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানগুলির জন্য এই সারচার্জ ১৫০ ডলার (সাড়ে ১৩ হাজার টাকারও বেশি) থেকে বৃদ্ধি করে করা হবে ২০০ ডলার (প্রায় ১৮ হাজার টাকা)। পরবর্তী সময়ে হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াগামী বিমানেও সারচার্জ বৃদ্ধি করা হবে। তবে তা কবে থেকে, সেটি এখনও পর্যন্ত ঘোষণা করেননি এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝে এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি সরবরাহ হয়। ভারতে যে জ্বালানি তেল আমদানি হয়, তারও একটি অংশ আসে হরমুজ় প্রণালী হয়েই। কিন্তু উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীতে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বেশ কিছু পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগও উঠেছে। যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানির আমদানি-রফতানিতেও।