Advertisement
E-Paper

সুন্দরী মেয়ে দেখলে ছেলেরা বিভ্রান্ত হয়, তাই এত ধর্ষণ! মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়কের মুখে নতুন ব্যাখ্যা, বিতর্ক

একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ধর্ষণ প্রসঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ কথা বলেছেন মধ্যপ্রদেশের ভান্ডেরের কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিংহ বরইয়া। তাঁর একাধিক মন্তব্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:২০
মধ্যপ্রদেশের ভান্ডেরের কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিংহ বরইয়া।

মধ্যপ্রদেশের ভান্ডেরের কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিংহ বরইয়া। —ফাইল চিত্র।

রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পুরুষ যদি কোনও সুন্দরী মহিলাকে দেখেন, তবে তিনি বিভ্রান্ত হন। তাঁর মন বিক্ষিপ্ত হয়। সেই কারণেই তিনি সেই মহিলাকে ধর্ষণ করেন। দেশ জুড়ে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের এমনই ব্যাখ্যা দিলেন মধ্যপ্রদেশের ভান্ডেরের কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিংহ বরইয়া। তাঁর এই মন্তব্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুধু সুন্দরী মেয়েদের কথা বলেই থামেননি তিনি। এনেছেন তফসিলি জাতি (এসসি), জনজাতি (এসটি) এবং অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের (ওবিসি) তত্ত্বও।

একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ধর্ষণ প্রসঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ কথা বলেছেন বরইয়া। দাবি, ভারতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হন পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর মহিলারা। এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত এই সমস্ত মহিলাদের নাকি ধর্ষণ করা হয় পুণ্যের লোভে! প্রাচীন পুঁথিতে এই ধরনের নিদান রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে ধর্ষণের দ্বিতীয় তত্ত্ব হিসাবে তুলে ধরেছেন সুন্দরী রমণীর কথা। বিধায়ক বলেছেন, ‘‘ভারতে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার কারা? এসসি, এসটি, ওবিসি। ধর্ষণের তত্ত্ব হল, কোনও পুরুষ, যে কোনও মানসিক পরিস্থিতিতেই হোক, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যদি সুন্দরী মহিলাকে দেখেন, তাতে তাঁর মন বিভ্রান্ত হতে পারে এবং তিনি ওই মহিলাকে ধর্ষণ করতে পারেন।’’

এসসি, এসটি বা ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলারা সুন্দরী নন, দাবি কংগ্রেস বিধায়কের। তা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ধর্ষিতা হন? বরইয়ার যুক্তি, প্রাচীন পুঁথিতে তাঁদের ধর্ষণের নিদান দেওয়া আছে। তাঁর কথায়, ‘‘লেখা আছে, এই সম্প্রদায়ের কোনও মহিলার সঙ্গে সঙ্গম করলে তীর্থযাত্রার সমান পুণ্যলাভ হবে। কেউ যদি তীর্থযাত্রায় যেতে না পারেন, তাঁর কাছে পুণ্যের আর কী বিকল্প আছে? তখন তিনি রাতের অন্ধকারে এই সম্প্রদায়ের কোনও মেয়েকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সেই কারণেই চার মাস কিংবা এক বছরের শিশুরাও ধর্ষিত হচ্ছে।’’

কংগ্রেস বিধায়কের এই মন্তব্যে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতি আলোড়িত। দল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব রচনা করেছে। রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি জিতু পটওয়ারি বলেছেন, ‘‘কোনও ধর্ষণকেই সমর্থন করা যায় না। যিনি ধর্ষণ করেন, তিনি অপরাধী। এর সঙ্গে জাত বা ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা আশিস আগরওয়াল বলেছেন, ‘‘মহিলাদের সৌন্দর্য দিয়ে মাপা এবং দলিত-আদিবাসী মহিলাদের উপর জঘন্য অত্যাচারকে পবিত্র কাজ বলে দাবি করা মানবতার বিরোধী।’’

Madhya Pradesh Congress rape cases
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy