এ বার ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন সে দেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পাহলভি। জানালেন, তাঁর দেশ ‘স্বাধীন’ হলে ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে। দুই দেশ আরও কাছাকাছি আসবে। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ইরান সফরের স্মৃতিচারণাও করেছেন তিনি।
ইরানের প্রাক্তন শাসক রেজ়া শাহ পাহলভির পুত্র যুবরাজ পাহলভি। ৬৫ বছর বয়সি যুবরাজ বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। ১৯৭৯ সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর পিতা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই তিনি ইরানের বাইরে বাস করছেন। বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছে, বাইরে থেকেও তার অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন পাহলভি। তাঁর বাণী বিদ্রোহীদের উদ্বুদ্ধ করছে। শুক্রবারও সমাজমাধ্যমে ইরানবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন যুবরাজ। নতুন করে নতুন উদ্যমে পথে নামার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। লিখেছেন, ‘‘তোমাদের ক্রোধ এবং বিদ্রোহের আওয়াজ আরও জোরদার করো। গোটা বিশ্ব তোমাদের সাহস দেখছে। এই বিপ্লবে সকলে তোমাদের সমর্থন করবে।’’
আরও পড়ুন:
শুক্রবার আমেরিকায় একটি সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ। বলেছেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ইরান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রেক্ষাপটে যে কোনও দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতে আমরা একটা সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ইতিহাস লক্ষ করি। আমার মনে হয়, দেশ হিসাবে আমরা আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত। এটাই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার পথ হয়ে উঠতে পারে।’’ ইন্দিরার ইরান সফরের কথা বলতে গিয়ে পাহলভি বলেন, ‘‘আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। ভারত এবং ইরানের সম্পর্ক অনেক পুরনো।’’
বিবিধ আন্তর্জাতিক সঙ্কটে ভারতের সহযোগিতা ইরানের প্রয়োজন হবে, মনে করেন পাহলভি। তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীতে এখন আমাদের সামনে অনেক সঙ্কট রয়েছে। জ্বালানির সমস্যা, জ্বালানি ঘাটতির সমস্যা, জনসংখ্যার সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।’’ পাহলভি মনে করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান প্রথম সারিতে। প্রযুক্তি, ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাই ইরান এবং ভারতের পারস্পরিক সহযোগিতা দেখতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আশা করি, আমরা যখন স্বাধীন হব, আবার নতুন করে সব শুরু করতে পারব।’’
দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানে বিদ্রোহ চলছে। খামেনেইয়ের ধর্মীয় শাসন ধূলিসাৎ করতে পথে নেমেছে জনতা। কঠোর ভাবে সেই বিদ্রোহ দমন করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত আন্দোলনে ২৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে খবর। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদ্রোহীদের পাশে থেকে খামেনেইকে একাধিক বার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানে সামরিক পদক্ষেপের কথাও বলেছেন। তবে গত কয়েক দিনে ইরান কিছুটা শান্ত হয়েছে। ট্রাম্পও সুর নরম করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ফের জ্বলে ওঠার ডাক দিলেন নির্বাসিত যুবরাজ।