ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজ়া পাহলভির কতটা জনসমর্থন রয়েছে, তা নিয়ে সংশয়ী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গোঁড়া ধর্মীয় শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেও। তবে পাহলভি ক্ষমতা দখলের জন্য ইরানের মানুষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
ইরানের প্রাক্তন শাসক রেজ়া শাহ পাহলভির পুত্র যুবরাজ পাহলভি। ৬৫ বছর বয়সী যুবরাজ বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। ১৯৭৯ সালে তেহরানে ইসলামিক বিপ্লবে তাঁর পিতা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই তিনি ইরানের বাইরে বাস করছেন। তবে বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অন্যতম কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন যুবরাজ পাহলভি।
ইরানে পাহলভির ডাকা গণপ্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। চাপের মুখে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয় খামেনেইয়ের প্রশাসন। তবে পাহলভিকে একজন ‘ভাল মানুষ’ বলে মনে করলেও ইরানের অভ্যন্তরে তাঁর কতটা গ্রহণযোগ্য রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তাঁকে দেখে খুব ভাল মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু আমি জানি না তিনি নিজের দেশে (ইরানে) কেমন ভূমিকায় থাকবেন। আসলে আমরা এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছোইনি।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি জানি না ইরান তাঁর নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না। যদি তাঁরা (ইরানের সাধারণ মানুষ) মেনে নেন, তবে আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই।” ইরানে খামেনেই বিরোধী গণবিক্ষোভে শুরু থেকে সমর্থন জুগিয়ে আসছেন ট্রাম্প। বার বার প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করেছেন। তাঁদের সাহায্য পাঠানোর কথা বলেছেন। এমনকি ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে, তার পরিণাম নিয়েও সাবধান করে দিয়েছেন খামেনেইদের। কিন্তু এই অবস্থাতেও পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন জানানো নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
ইরানের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাহলভির সঙ্গে তাঁর দেখা করার কোনও পরিকল্পনা নেই। যদিও পরে এমনটাও শোনা যায়, ট্রাম্পের কোনও দূত ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আসেনি। এরই মধ্যে এ বার পাহলভির নেতৃত্বদানের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। পাহলভির সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের সাক্ষাতে কি তা হলে এমন কিছু উঠে এসেছে, যা ট্রাম্পকে এমনটা ভাবতে বাধ্য করছে? যদিও কেন পাহলভির প্রসঙ্গে ট্রাম্প এমন মনে করেন, তা ওই সাক্ষাৎকারে খোলসা করেননি তিনি।