আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দুই দেশের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরালো করেছে ইরান। তারা আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করেছে। এই অভিযানে প্রতিপক্ষ দু’দেশের বিভিন্ন ঠিকানায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে খামেনেইয়ের দেশ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই সে দেশের প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে ‘নরকের দরজা দেখিয়েই ছাড়ব’। আর তার পর থেকেই দুই দেশের বিরুদ্ধে সংগঠিত এবং সুনির্দিষ্ট ভাবে হামলা চালাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করেছে ইরান।
এই অভিযানে খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এটি ইরানের অস্ত্রভান্ডারের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি। ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ইজ়রায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে তছনছ করে একের পর এক সেনাঘাঁটি, সরকারি দফতর এবং পূর্ব জেরুসালেমে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার পরই ইজ়রালেয়িদের সতর্ক করে ইরান বলেছে, সেনাঘাঁটি এবং সরকারি দফতরগুলি থেকে দূরে থাকুন।
খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের অস্ত্রভান্ডারের নবীন সদস্য। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে এটি ইরানের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে। ইরানের দাবি, প্রতিপক্ষ দুই দেশের ঘুম ‘ওড়ানোর’ পক্ষে যথেষ্ট তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র। এটি দীর্ঘপাল্লার সলিড ফুয়েল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি চতুর্থ প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, যা ২০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে। এর পাল্লা এতটাই বেশি যে, ইজ়রায়েল, মিশর, সৌদি আরব এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশও এই ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানার আওতায় চলে আসে। ইরান দাবি করছে, এখনও তারা শুধু অস্ত্রভান্ডারের খুব সামান্য অংশই আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তবে প্রয়োজনে যে পুরো শক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে প্রস্তুত, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তারা। খেইবার শেকন ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে স্যাটেলাইট গাইডেন্স ব্যবস্থা। এটি বিপুল পরিমাণ পরমাণু বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। ওজন ১৫০০ কেজি। ২০২৪ সালে ‘ট্রু প্রমিস ১’ অভিযানে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল ইরান।
এ ছাড়াও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে ইরানের শাহেদ ১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন। সস্তার এই ড্রোন দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বেশ কয়েকটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায়। বিপুল পরিমাণে এই ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি। অত্যন্ত ঘাতক এই ড্রোন আকারে ছোট। এই ড্রোন ২০০০-২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ইরান থেকে ইজ়রায়েলের দূরত্ব প্রায় ১৬০০-১৮০০ কিলোমিটার। ফলে সহজেই এই ড্রোনকে কাজে লাগাতে পারছে ইরান। ২০২০ সালে এই ড্রোন তৈরি করে ইরান।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৮:০৩
সুইৎজ়ারল্যান্ডের পথে ট্রাম্পের দূত, ইরান থেকে যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি, জল্পনায় শান্তি-বৈঠকের প্রথম দফা -
১৪:৪৭
সুইৎজ়ারল্যান্ডে পিছিয়ে গেল আমেরিকা-ইরানের বৈঠক! সফর হঠাৎ বাতিল করে দিলেন ভান্স, শান্তির পথে ফের বাধা? -
দ্বন্দ্ব থামিয়ে সমঝোতার পথে আমেরিকা-ইরান! মধ্যস্থতাকারী হিসাবে রইল পাকিস্তানের নাম, কোন কোন শর্তে সন্ধি হল?
-
‘চুক্তি পছন্দ না হলে ইরানে ফের বোমা ফেলব’, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের দু’দিন আগে জি৭ শীর্ষবৈঠকে নয়া সুর ট্রাম্পের
-
আলো নিবিয়ে, ট্র্যাকার বন্ধ করে হরমুজ় অতিক্রম! ইরানি কায়দাতেই তেহরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল লুট করেছে আমেরিকা?