এ বার কি নজর কিউবার দিকে? ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এই দ্বীপরাষ্ট্রে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে আমেরিকা? কিউবার দক্ষিণ উপকূলে আমেরিকার সবচেয়ে দামি ড্রোন এমকিউ ৪সি ট্রিটন-কে টানা চক্কর কাটতে দেখা যাওয়ায় জল্পনা জোরালো হয়েছে। তা হলে কি এ বার ভেনেজ়ুয়েলার মতো কিউবা অভিযানে নামতে চলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ?
ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, কিউবার দক্ষিণ উপকূলে ছ’ঘণ্টা ধরে চক্কর কাটে ড্রোনটি। এটি জ্যাকসনভিল থেকে উড়েছিল। কিউবার দক্ষিণ উপকূল বরাবর নজরদারি চালায় সেটি। স্যান্টিয়াগো ডি কিউবার কাছে দু’ঘণ্টা চক্কর কাটে। তার পর হাভানার আশপাশে আরও দু’ঘণ্টা চক্কর কাটতে দেখা যায়। তার পর সেটি আবার জ্যাকসনভিলের দিকে উড়ে যায়। ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, কিউবার আকাশে আমেরিকার এই ড্রোনকে আগে কখনও চক্কর কাটতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সংবাদামাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ড্রোন মূলত সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল যেমন কৃষ্ণসাগর, পারস্য উপসাগর এবং ভূমধ্যসাগরের উপরে নজরদারি চালায়।
আরও পড়ুন:
এই ড্রোন মার্কিন বাহিনীর অস্ত্র ভান্ডারের সবচেয়ে দামি এবং অত্যাধুনিক নজরদারি-অস্ত্র। একটি ড্রোনের দাম প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়তে পারে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় টানা উড়তে পারে। বেশ কয়েকটি সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তথ্য বলছে, আমেরিকার হাতে ২০টি ট্রিটন ড্রোন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এ বার কিউবা দখলের পালা। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি কিউবা দখলের কৃতিত্ব পাব। আমি এ-ও মনে করি এটা বড় সম্মান।’’ কিউবারকে দুর্বল দেশ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, কিউবায় তেল রফতানির উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। ভেনেজ়ুয়েলা থেকে কিউবায় তেল রফতানি করা হত। কিন্তু ভেনেজ়ুয়েলা ‘দখলের’ পর তার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপান ট্রাম্প। ঘটনাচক্রে, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পরই কিউবা দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আবহে কিউবার উপরে ট্রিটন ড্রোনের চক্কর কাটার ঘটনা সে দেশে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের জল্পনাকে আরও উস্কে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।