Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

এক দিনে ৯ লক্ষের বেশি করোনা পরীক্ষা, নতুন আক্রান্ত ৬৯৬৫২

এক দিনে আক্রান্ত বৃদ্ধির নিরিখে আমেরিকা ও ব্রাজিলের থেকে ভারতের এগিয়ে থাকার পরিসংখ্যান আজও অব্যাহত।

সংবাদ সংস্থা
নয়াদিল্লি ২০ অগস্ট ২০২০ ১০:১৭
Save
Something isn't right! Please refresh.
দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ২৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯২৫ জন। গ্রাফিক-শৌভিক দেবনাথ।

দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ২৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯২৫ জন। গ্রাফিক-শৌভিক দেবনাথ।

Popup Close

দৈনিক নতুন সংক্রমণ অগস্টের শুরু থেকেই ঘোরাফেরা করছিল ৫৫-৬৪ হাজারের মধ্যে। যা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছিল। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা এখনও অবধি সর্বোচ্চ পরিমাণে বাড়ল। যার জেরে দেশের মোট আক্রান্ত ২৮ লক্ষ পেরলো। দেশে করোনার জেরে মৃত্যুও ৫৪ হাজারের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তবুও এর মধ্যেই স্বস্তি দিচ্ছে সুস্থ হওয়ার পরিসংখ্যান। পাশাপাশি সংক্রমণ হারও গত এক সপ্তাহ ধরে ৭/৮ শতাংশের আশেপাশেই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে যে সংখ্যক কোভিড-১৯ পরীক্ষা হয়েছে, তা করোনাকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৯ হাজার ৬৫২ জন নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই সময়ের মধ্যে, আমেরিকা ও ব্রাজিলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৬ হাজার ৯৭৭ ও ৪৯ হাজার ২৯৮ জন। অর্থাৎ এক দিনে আক্রান্ত বৃদ্ধির নিরিখে আমেরিকা ও ব্রাজিলের থেকে ভারতের এগিয়ে থাকার পরিসংখ্যান আজও অব্যাহত। এই বৃদ্ধির জেরে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ২৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ৯২৫ জন। সেখানে বিশ্বে প্রথম স্থানে থাকা আমেরিকাতে মোট আক্রান্ত ৫৫ লক্ষ ২৯ হাজার ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে ৩৪ লক্ষ ৫৬ হাজার।

Advertisement

প্রতি দিন যে সংখ্যক মানুষের পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে যত শতাংশের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, সেটাকেই বলা হচ্ছে ‘পজিটিভিটি রেট’ বা সংক্রমণের হার। গত এক সপ্তাহ ধরে এই হার রয়েছে নয় শতাংশের কম। যা বেশ স্বস্তিদায়ক। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সংক্রমণ হার ৭.৫৮ শতাংশ। অগস্টের শুরু থেকেই দেশে করোনা পরীক্ষাও অনেক বেশি সংখ্যায় হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা হয়েছে ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৭০ জনের। এক দিনে এত সংখ্যক পরীক্ষা এর আগে কখনও হয়নি।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

আক্রান্তের সংখ্যা যেমন রোজ বাড়ছে, তেমনই প্রচুর মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন। দেশে কোভিড রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যান শুরু থেকেই আশাব্যাঞ্জক। এখনও পর্যন্ত মোট ২০ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৬৪ জন করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ দেশে মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৪ শতাংশই সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫৮ হাজার ৭৯৪ জন।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

স্পেন, ফ্রান্স, ইটালি, ব্রিটেনের মতো দেশকে পিছনে ফেলে, মৃত্যুর নিরিখে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। যদিও দেশে মৃত্যুর হার ওই সব দেশগুলির তুলনায় ভারতে অনেকটাই কম। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার জেরে মৃত্যু হয়েছে ৯৭৭ জনের। এ নিয়ে দেশে মোট ৫৩ হাজার ৮৬৬ জনের প্রাণ কাড়ল করোনাভাইরাস। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মারা গিয়েছেন ২১ হাজার ৩৩ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিলনাড়ুতে মোট মৃত আজ ৬ হাজার ১২৩ জন। দেশের রাজধানীতে সেই সংখ্যাটা ৪ হাজার ২৩৫ জন। কর্নাটকেও মৃতের সংখ্যা দিল্লির থেকেও বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশ (২,৯০৬), গুজরাত (২,৮৩৭), উত্তরপ্রদেশ (২,৬৩৮), পশ্চিমবঙ্গ (২,৫৮১) মৃত্যু তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে। মধ্যপ্রদেশেও মোট মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়ে বেড়ে চলেছে। এর পর ক্রমান্বয়ে রয়েছে রাজস্থান, তেলঙ্গানা, পঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীর, বিহারে, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ড, ছত্তীসগঢ়, গোয়া-র মতো রাজ্যগুলি।

কোভিডে আক্রান্ত ও মৃত্যু দু’টি তালিকাতেই শুরু থেকেই শীর্ষে মহারাষ্ট্র। সেখানে মোট আক্রান্ত ৬ লক্ষ ২৮ হাজার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিলনাড়ুতে মোট আক্রান্ত সাড়ে তিন লক্ষ ছাড়িয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশেও মোট আক্রান্ত তিন লক্ষ পার করে রোজ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চতুর্থ স্থানে থাকা কর্নাটকে সংখ্যাটা প্রায় আ়ড়াই লক্ষ। এর পর রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (১,৬৭,৫১০) ও দিল্লি (১,৫৬,১৩৯)। যদিও জুলাই থেকেই বেশ লাগাম পড়েছে রাজধানীর সংক্রমণ বৃদ্ধিতে। পশ্চিমবঙ্গ (১,২৫,৯২২) ও বিহারে (১,১২,৪৩৭) মোট আক্রান্ত এক লক্ষ পার করে বাড়ছে।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

তবে জুলাইয়ের তুলনায় অগস্টে, তেলঙ্গানাতে দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। সেখানে মোট আক্রান্ত ৯৭ হাজার ৪২৪ জন। অসম, গুজরাতে মোট আক্রান্ত ৮০ হাজারের বেশি। ওড়িশা, রাজস্থানে সেটা ৬০ হাজারের ঘরে। হরিয়ানা, কেরল, মধ্যপ্রদেশে মোট আক্রান্ত ৫০ হাজার ছুঁইছুঁই। পঞ্জাব, জম্ম ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, উত্তরাখণ্ড, গোয়াতে মোট আক্রান্ত ৩০ হাজারের কম। ত্রিপুরা, মণিপুর, হিমাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশের মতো রাজ্যে মোট আক্রান্ত ১০ হাজারের কম।

পশ্চিমবঙ্গে দৈনিক গড়ে তিন হাজার নতুন সংক্রমণ হচ্ছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ১৬৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। এ নিয়ে রাজ্যে মোট আক্রান্ত হলেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৯২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। করোনার কবলে এ রাজ্যে এখনও অবধি প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৫৮১ জন।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

(চলন্ত গড় বা মুভিং অ্যাভারেজ কী: একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঁচ দিনের চলন্ত গড় হল— সেই দিনের সংখ্যা, তার আগের দু’দিনের সংখ্যা এবং তার পরের দু’দিনের সংখ্যার গড়। উদাহরণ হিসেবে— দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের লেখচিত্রে ১৮ মে-র তথ্য দেখা যেতে পারে। সে দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ৪৯৫৬। কিন্তু সে দিন নতুন আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৫২৬৯। তার আগের দু’দিন ছিল ৩৯৭০ এবং ৪৯৮৭। পরের দুদিনের সংখ্যা ছিল ৪৯৪৩ এবং ৫৬১১। ১৬ থেকে ২০ মে, এই পাঁচ দিনের গড় হল ৪৯৫৬, যা ১৮ মে-র চলন্ত গড়। ঠিক একই ভাবে ১৯ মে-র চলন্ত গড় হল ১৭ থেকে ২১ মে-র আক্রান্তের সংখ্যার গড়। পরিসংখ্যানবিদ্যায় দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ সহজ ভাবে বোঝার জন্য এবং স্বল্পমেয়াদি বড় বিচ্যুতি এড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়)

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement