আগামী সপ্তাহে আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো আয়োজিত একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভারত-আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক, শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপড়েনের মাঝেই জয়শঙ্করের এই আমেরিকা সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করেছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিরল খনিজ (ক্রিটিকাল মিনারেলস) সরবরাহ সংক্রান্ত একটি বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকে যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন জয়শঙ্কর। সেখানে রুবিয়ো, জয়শঙ্কর-সহ একধিক মার্কিন কর্তারা উপস্থিত থাকতে পারেন। বিরল খনিজ নিয়ে চিনের সঙ্গে লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই ভারতকে পাশে পেতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। ওয়াশিংটনে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে নিয়ে এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ভারতকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার।
আরও পড়ুন:
চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজগুলির সরবরাহ-শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে ওয়াশিংটনের ‘পাখির চোখ’ বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) ও লিথিয়ামের মতো খনিজগুলি। কারণ, সামরিক সরঞ্জাম, সেমিকন্ডাক্টর এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি-প্রযুক্তির জন্য এগুলি অপরিহার্য। গত ৯ অক্টোবর চিন সরকার বিরল খনিজ রফতানিতে কিছু বিধিনিষেধ জারি করার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শি জিনপিং সরকারের অভিযোগ, তাদের পণ্য বিভিন্ন দেশ সামরিক খাতে কাজে লাগাচ্ছে। বিশ্বশান্তির কথা ভেবে তাই তারা বিরল খনিজের রফতানিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেজিঙের এই নীতির বিরোধিতায় সক্রিয় হয়েছে ট্রাম্প সরকার।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসের তিন সদস্য এবং আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের বৈঠক হয়। ভারত সফরে আসা আমেরিকান কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলটিতে ছিলেন রিপাবলিকান সদস্য জিমি পেট্রোনিস, মাইক রজার্স এবং ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ। বৈঠকে এঁদের পাশাপাশি ছিলেন ভারতে আমেরিকার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোরও। বৈঠক শেষে এক্স হ্যান্ডলে জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউক্রেনের সংঘাত নিয়ে ‘ভাল আলোচনা’ হয়েছে তাঁদের। বিদেশমন্ত্রী এ-ও জানান, সংসদীয় স্তরে আলোচনা সব সময়েই গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১৩ জানুয়ারি রুবিয়োর সঙ্গে টেলিফোনে একপ্রস্ত আলোচনা সারেন জয়শঙ্কর। বাণিজ্য, বিরল খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎক্ষেত্র নিয়ে কথা হয় তাঁদের।