বারামতীতে অজিত পওয়ারের বিমান ভেঙে পড়ার ঠিক আগে ককপিট থেকে ভেসে এসেছিল দু’টি শব্দ। বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে এমনটাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। দুই বিমানকর্মী (এক জন পাইলট, অপর জন ফার্স্ট অফিসার)-র মধ্যে কোনও এক জন চিৎকার করে বলে উঠেছিলেন, ‘ওহ শিট’! সাধারণত কোনও কাজে বড় ভুল হলে, বা কেউ কোনও কিছুতে হতাশ হলে এই আপাত অশোভন ইংরেজি শব্দদ্বয় ব্যবহার করে থাকেন।
বুধবার বিকেল থেকেই একাধিক সূত্র মারফত খবর আসছিল যে, দুর্ঘটনার প্রাক্মুহূর্তে ককপিট থেকে দু’টি শব্দ ভেসে এসেছিল। বৃহস্পতিবার দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র এক আধিকারিক এই খবরে সিলমোহর দেন।
বুধবার সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় ভেঙে পড়ে চাটার্ড বিমানটি। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত ছাড়াও মৃত্যু হয় বিমানের পাইলট সুমিত কপূর, ফার্স্ট অফিসার শম্ভাবি পাঠক এবং এনসিপি প্রধানের দুই সহকারীর।
বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিতের বিমান। লিয়ারজেট-৪৫ সংস্থার ছোট আকারের ব্যক্তিগত ওই বিমানে (প্রাইভেট জেট) আট থেকে ন’জনের বসার জায়গা রয়েছে।
সিসি ক্যামেরার নতুন একটি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বারামতীর একটি মন্দিরের কাছে চাটার্ড বিমানটি দ্রুত গতিতে নীচের দিকে নেমে আসছে। আকাশেই কয়েক বার পাল্টি খেয়ে সেটি কিছু ক্ষণের জন্য চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছে। তার পরেই বিস্ফোরণের আগুন দেখা যাচ্ছে ঝোপঝাড়ের ও পার থেকে। এই ভিডিয়ো থেকেই স্পষ্ট যে, অবতরণ করার আগেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তার পরেই সেটি রানওয়ে ছোঁয়ার আগেই রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়ে কয়েক টুকরো হয়ে ভেঙে যায় এবং সেটিতে আগুন ধরে যায়। (যদিও আনন্দবাজার ডট কম এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি)
ইতিমধ্যেই বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পরীক্ষা করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় বারামতী বিমানবন্দর এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। ফলে দৃশ্যমানতাও কম ছিল। সেই কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বুধবার দৃশ্যমানতা কম থাকার কথা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডুও। তিনি বলেন, “ডিজিসিএ (দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা) এবং এএআইবি (বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানটি অবতরণ করার সময় দৃশ্যমানতা কম ছিল।”
বিমানমন্ত্রী জানান, প্রথম বার অবতরণ করার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এর তরফে বিমানটির পাইলটকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে কি না। জবাবে পাইলটের তরফে নেতিবাচক উত্তর আসে। বিমানটি আর এক চক্কর কেটে দ্বিতীয় বার অবতরণ করার চেষ্টা করে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বার একই প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন পাইলট। তার পরেই বিমানটিকে অবতরণ করার অনুমতি দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় অবতরণ করার সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি।