E-Paper

কত ভোট, কেন্দ্র ছাড়ার আগে ভরতে হবে ফর্ম

গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটের দিন পাওয়া সর্বশেষ ভোটদানের হার এবং পরে চূড়ান্ত হওয়া ভোটদানের হারের মধ্যে পার্থক্য প্রায় চার থেকে ছয় শতাংশ হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চলতি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট শেষ হওয়ার পরে সেই কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কত ভোট পড়েছে, তা ১৭সি ফর্মে নথিভুক্ত করার পরেই ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন প্রিসাইডিং অফিসারেরা। চলতি নির্বাচনে নতুন যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি করা হয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মূলত বিতর্ক এড়াতেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধীদের বক্তব্য, তাদের চাপেই ওই নিয়মে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।

গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটের দিন পাওয়া সর্বশেষ ভোটদানের হার এবং পরে চূড়ান্ত হওয়া ভোটদানের হারের মধ্যে পার্থক্য প্রায় চার থেকে ছয় শতাংশ হয়েছে। ওই বাড়তি ভোটই দু’বছর আগে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে সাহায্য করেছে বলে সে সময় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীদের অভিযোগ ছিল, মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের দিন বিকেল পাঁচটায় সেখানে ভোটদানের হার ছিল ৫৮.২২ শতাংশ। পরে চূড়ান্ত ভোটদানের হার দাঁড়ায় ৬২.০৫ শতাংশ। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংখ্যার হিসাবে ভোটের দিন সন্ধ্যা ছ’টার পরে প্রায় ৭৬ লক্ষ ভোট পড়েছে গোটা রাজ্যে! চিত্রটি কমবেশি এক ছিল হরিয়ানাতেও। এ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আজ জানিয়েছেন, ‘‘আগে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার পোলিং সেন্টারে এসে ১৭সি ফর্ম ভরতেন। তাতে সর্বশেষ তথ্য পেতে সময় লাগত। তাই এখন থেকে প্রিসাইডিং অফিসারেরা সংশ্লিষ্ট ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই ১৭সি ফর্ম ভরে তবেই ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন।’’ কমিশন জানিয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ১৭সি ভরার পাশাপাশি সর্বশেষ ভোটদানের হার সংক্রান্ত তথ্য ইসিআইনেট-এ তুলে দিলেই ওই কেন্দ্রের চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে একদিকে যেমন সময়ে তথ্য পাওয়া যাবে, তেমনই এ সংক্রান্ত বিতর্কেও ইতি পড়বে। কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য, রাহুল গান্ধী ভোট চুরির বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে সক্রিয় হওয়াতেই ওই বদল আনতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।

এ বারে যে পাঁচ রাজ্যে ভোট হচ্ছে, তার মধ্যে অসম বাদে বাকি চারটিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) হওয়ার পরেই ভোট হচ্ছে। অসমে বিশেষ সংশোধন (এসআর) হয়েছে। কমিশন এসআইআর করতে গিয়ে দেখেছে, ভোটার তালিকার বাৎসরিক সংশোধন হলেও প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই ভোটার তালিকায় মৃতদের নাম থেকে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। সে কারণে কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই যাতে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, সেই লক্ষ্যে মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন তথ্যভান্ডারে লিঙ্কিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের নাম পাওয়া গিয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় সেই নামগুলিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রচারে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার-সহ প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে, জানিয়েছে কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ভোটে রাজনৈতিক হিংসাকে রুখে দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট করা কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিরোধীদের অভিযোগ, হিংসা রুখতে কেন্দ্র প্রয়োজনীয় আধাসেনা পাঠালেও রাজ্য প্রশাসন কৌশলে সেই আধাসেনাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখে। সমস্যা সমাধানে রাজ্য প্রশাসন ও আধাসেনার মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে ‘ডিস্ট্রিক্ট ফোর্স কোঅর্ডিনেটর’ নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া পরাজিত প্রার্থীর মনে ফল নিয়ে সন্দেহ হলে ৭ দিনের মধ্যে তিনি আবেদন জানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ ইভিএমের ফল যাচাই করবে কমিশন। এ ছাড়া ১৭সি ফর্ম ও ইভিএমে পড়া ভোটের মধ্যে তথ্যগত ফারাক থাকলে সংশয় নিরসনে সেই কেন্দ্রের ভিভিপ্যাটে জমা হওয়া স্লিপের গণনা করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে এই পদক্ষেপগুলি এ বারে নতুন নয়, অতীতেও নেওয়া হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission of India Presiding Officer

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy