ছত্তীসগঢ়ে বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৩। গত ১৪ এপ্রিলের এই দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ৫ জন শ্রমিক। বর্তমানে গুরুতর আহত ১৪ জন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
সে দিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বয়লারের সাথে যুক্ত একটি উচ্চচাপ বিশিষ্ট বাষ্পবাহী নলে ফাটল ধরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সক্তী জেলার ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি জানিয়েছে, বয়লারের ভিতর বেশি মাত্রায় জ্বালানি জমে গিয়েছিল। সেই জ্বালানির চাপেই বয়লারের নীচের একটি পাইপ স্থানচ্যুত হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, কাঠামোগত ত্রুটির ফলে হঠাৎই বয়লারের ভিতর থেকে গরম হাওয়া বের হতে থাকে। শ্রমিকরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আগেই আগুনে ঝলসে যান তাঁদের অনেকে। সক্তী জেলার পুলিশ সুপার প্রফুল ঠাকুরের নির্দেশে মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার বেদান্ত সংস্থার চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল, ম্যানেজার দেবেন্দ্র পটেল-সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ (অবহেলার কারণে মৃত্যু), ২৮৯ (যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা) এবং (৫) (সাধারণ অভিপ্রায়) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিলের আওতায় আহতদের ৫০ হাজার ও মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।
এত কিছুর মধ্যেই বিতর্কে জড়ালেন জিন্দল স্টিলের চেয়ারম্যান শিল্পপতি নবীন জিন্দল। বেদান্তের কর্নধার অনিল আগরওয়াল, ম্যানেজার দেবেন্দ্র পটেলের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। এর পরই তাঁকে নেট নাগরিকদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। শনিবার নবীন জিন্দল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘‘তদন্ত ছাড়াই আগরওয়ালের নাম এফআইআরে উঠেছে, এটি খুবই উদ্বেগের বিষয়।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘ছত্তীসগঢ়ের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। তাঁদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার তদন্ত অপরিহার্য।’’ জিন্দলের এই পোস্টের তীব্র নিন্দা করেছেন পরস গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রবেশ জৈন। তিনি লিখেছেন, ‘‘নবীন জিন্দল মহাশয়, আপনার হৃদয় আছে? ২০টি পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও আপনি নিজের সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন না করে কোটিপতিকে সমর্থন করছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ এটি কখনওই কোন শিল্প সংস্থার সংহতি হতে পারে না। এটি মেঝেয় ঝরে পড়া রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)