Advertisement
E-Paper

জোড়-বিজোড় নিয়ে কোর্টের প্যাঁচে কেজরী

গত কাল জাতীয় পরিবেশ আদালতের সমালোচনার পরে তড়িঘড়ি আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আপ সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলে ফের দিল্লি সরকারের তীব্র সমালোচনায় সরব হয় পরিবেশ আদালত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০১৭ ০৪:০৮
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

দিল্লির রাস্তায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে জোড়-বিজোড় নীতি চালু করতে গিয়ে ফাঁপরে পড়ল অরবিন্দ কেজরীবালের সরকার। এই সিদ্ধান্তে দূষণ আদৌ নিয়ন্ত্রণ হয় কি না, সে প্রশ্নের ফয়সালা করে তবেই জোড়-বিজোড় চালু করার নির্দেশ দিল পরিবেশ আদালত।

গত কাল জাতীয় পরিবেশ আদালতের সমালোচনার পরে তড়িঘড়ি আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আপ সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলে ফের দিল্লি সরকারের তীব্র সমালোচনায় সরব হয় পরিবেশ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ— পরিবেশবিদরা যেখানে একাধিক পদক্ষেপের কথা বলে আসছেন, সেখানে দিল্লি সরকার কেবল জোড়-বিজোড় চালু করেই দায় ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত। নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়ম না-মানায় ক’জনকে জরিমানা করা হয়েছে, এই তথ্য দিল্লি সরকারের কাছে জানতে চায় আদালত। এরই মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আজ কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, মাটি থেকে ১০০ মিটার উঁচু থেকে জল ছিটিয়ে দূষণ কমানোর চেষ্টা করবে কেন্দ্র। কী ভাবে তা হবে, কেন্দ্র আসলে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের পরিকল্পনা করছে কি না, সে সব নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি কেন্দ্রীয় কর্তারা।

গত বছর শেষ বার জোড় বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলেছিল দিল্লিতে। আদালতের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই সময়ে ওই নীতির ফলে দিল্লির বায়ু দূষণ চিত্রের বিশেষ হেরফের হয়নি। ফলে আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে ওই নীতি চালু হলে কোনও লাভ হবে কি না, সে বিষযে নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত জোড়-বিজোড় চালু করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত। কাল ওই মামলার শুনানি রয়েছে। কাল দিল্লি সরকারকে ডিজেল ও পেট্রোল গাড়ির ফলে দূষণের অনুপাত এবং ছোট গাড়ি দিল্লিতে কী পরিমাণ দূষণ ঘটায়, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আইআইটি কানপুরের সমীক্ষা অনুযায়ী মোটরবাইকের কারণে ৪৬ শতাংশ পরিবেশ দূষণ হয়। সেই তথ্য তুলে ধরে কেন জোড়-বিজোড় নীতিতে মোটরবাইককে ছাড় দেওয়া হল, তার ব্যাখ্যাও দিল্লি সরকারের কাছে চেয়েছে আদালত। প্রশ্ন উঠেছে, মহিলা চালকদেরই বা কেন ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ দিকে কেজরীবাল সরকার জানিয়েছে, জোড়-বিজোড়ের সপ্তাহে বিনামূল্যে বাসে চড়তে পারবেন যাত্রীরা।

দু’দিন বায়ুপ্রবাহের কারণে ধোঁয়াশার চাদর অনেকটাই সরে গেলেও, বাতাসে দূষিত কণা এখনও রয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন পরিবেশবিদরা। কেন্দ্রীয় পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্থা ‘সফর’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজধানীতে আজও ক্ষতিকর ভাসমান কণা পিএম-১০ ও পিএম-২.৫-এর সূচক ছিল যথাক্রমে ৫৮৭ ও ৩৭১। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবদেহের জন্য যা বেশ ক্ষতিকর। আগামিকালও পরিস্থিতি কম-বেশি এক থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। দূষণের ফলে পর্যটন ব্যহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বণিক সংস্থা অ্যাসোচেম। বিদেশিরা তো বটেই, দিল্লি-জয়পুর-আগ্রা এড়িয়ে যাচ্ছেন দেশি পর্যটকেরাও।

দিল্লির দূষণ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতিও। কেন্দ্রীয় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা যখন জোড়-বিজোড়ের ফায়দা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দূষণের যাবতীয় দায় কেজরীবালের ঘাড়ে ঠেলতে ব্যস্ত, তখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর টুইট, ‘‘দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে একা দোষ দিয়ে লাভ নেই। এ’টি জাতীয় সমস্যা। কেন্দ্রের উচিত দিল্লি, পঞ্জাব ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা।’’

অরবিন্দ কেজরীবাল Air Pollution Arvind Kejriwal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy