পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ গ্রেফতার হলেন আরও পাঁচ জন। ধৃতদের পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভট্টীর চক্রের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ‘মদতপুষ্ট’ এক সংগঠনের হয়ে তাঁরা প্রচার করতেন। পুলিশের উপর হামলাও ছক ছিল ধৃতদের। গত মাসেই এই চক্রের তিন জনকে পাকড়াও করে দিল্লি পুলিশ। বুধবার গ্রেফতার করা হল আরও পাঁচ জনকে।
গত ৭ মে এই জঙ্গি মডিউলের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জন এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার পর থেকেই ওই চক্রের বাকিদের সন্ধান চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই বুধবার ফরিদাবাদের বাসিন্দা সোহেল, দিল্লির সোনু মীনা, রাজস্থানের সচিনকুমার মীনা, হরিয়ানার মুহাম্মদ কাইফ এবং উত্তরপ্রদেশের মুহাম্মদ রিহানকে গ্রেফতার করা হয়।
দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক পিটিআই-কে জানান, দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলার দায়িত্ব ছিল অভিযুক্তদের উপর। পাশাপাশি, থানাগুলির উপর নজর রাখারও দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা। পুলিশের ওই আধিকারিক জানান, রাজধানী দিল্লিতে ‘তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান’ (টিটিএইচ) নামে এক সংগঠনের হয়ে প্রচারেও জড়িত ছিলেন ধৃতেরা।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে পিটিআই জানাচ্ছে, ধৃতদের পাকিস্তানি হ্যান্ডলার শাহজ়াদের সঙ্গে আইএসআই-এর যোগ ছিল। আইএসআই-ই শাহজ়াদকে সাহায্য করত এই চক্রটি চালাতে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েক জনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সূত্রের খবর, তাঁরা বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন। অভিযানের সময়ে পুলিশ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি কার্তুজ, বিভিন্ন পোস্টার এবং ডিজিটাল নথি উদ্ধার করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে ‘ডক্টরস মডিউল’-এর হদিস মেলে জম্মু-কাশ্মীরে। সেই সূত্র ধরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ওই মডিউলের আরও সদস্যের হদিস পান গোয়েন্দারা। সেখান থেকে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। গ্রেফতার হন বেশ আল ফালহা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক জন চিকিৎসক। তার পরই গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন ২০ জনেরও বেশি।