অজিত পওয়ারের নেতৃত্বে এনসিপি বিধায়কদের একাংশের ‘দলবদল’ এবং মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া ঘিরে টানাপড়েনের আবহেই শিন্ডেসেনা-বিজেপির সংঘাতের জল্পনা ছড়িয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১০ অগস্ট সে রাজ্যের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের ঘোষণায় নতুন মাত্রা পেল সেই জল্পনা। কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ সোমবার বলেছেন, ‘‘আগামী ১০ অগস্ট মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন অজিত।’’
গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে দিল্লি সফরে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা-সহ পদ্মশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার পরেই রবিবার জানা যায় রাজ্য মন্ত্রিসভার রদবদলের কথা। সেই সঙ্গে জল্পনা তৈরি হয়, শিন্ডেকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। যদিও শিন্ডে সোমবার এমন সম্ভাবনার কথা নাকচ করে বলেন, ‘‘আমাদের মন্ত্রিসভায় নতুন কয়েকটি মুখ আনা হবে।’’
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে সোমবার পৃথ্বীরাজের মন্তব্যের পর নতুন করে শুরু হয় জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্রের এনডিএ সরকারের আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ফডণবীস সোমবার বলেন, ‘‘গত ২ জুলাইয়ের বৈঠকেই বিজেপির তরফে অজিতকে জানানো হয়েছিল, তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এখনও সেই অবস্থানেই অটল রয়েছি।’’
গত বছর জুনে শিবসেনার বিধায়কদের ধাপে ধাপে ভাঙিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন শিন্ডে। বিজেপির সাহায্য নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন উদ্ধবকে। সে দিন এনসিপি এবং কংগ্রেসের মতো দলের সঙ্গে জোটের প্রতিবাদে ‘আদর্শগত অবস্থান’ থেকে শিবসেনা ভেঙেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকারেই সেই এনসিপির একটি গোষ্ঠী শামিল হওয়ায়, শিন্ডে ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে শিবসেনার অন্দরের খবর। বিশেষত অজিতকে উপমুখ্যমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী করা নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়া অজিতের অনুগামী সাত বিদ্রোহী এনসিপি বিধায়ক ভাল দফতর পাওয়ায় শিন্ডেসেনার বিধায়কদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে ‘খবর’ মিলেছে। গত ২ জুলাই এনসিপিতে পটপরিবর্তন মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে বদলে দিয়েছে বেশ কয়েকটি সমীকরণ। অজিত-সহ ন’জন বিদ্রোহী এনসিপি বিধায়কের মন্ত্রিত্ব এবং ভাল দফতর লাভের পরে এনডিএর অন্দরে ক্রমশ তাঁর শিবিরের পাল্লা ভারী হচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেছেন।