তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপ ফেলল সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী রাজনীতিতে। চিত্রতারকা-রাজনীতিক থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোট গড়ার কারণে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে আগেই কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিল। এ বার তারা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকও বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল।
আগামী সোমাবার (৮ জুন) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বৈঠক। কংগ্রেস, তৃণমূল, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা, শরদ পওয়ারের এনসিপি (এস), ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং বাম দলগুলি তাতে যোগ দিতে পারে। স্ট্যালিনের দল ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। কিন্তু তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের পরে কংগ্রেস সি জোসেফ বিজয়ের সরকারকে সমর্থন করায় তারা বিরোধী জোটের বৈঠক বয়কট করতে চলেছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডিএমকে সরাসরি জানিয়েছে, রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দলের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘পিছন থেকে ছুরি মারা’র প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার ডিএমকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর ডিএমকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে কংগ্রেস। এই ঘটনা আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের ভাবাবেগে গভীর ভাবে আঘাত করেছে। তাই ডিএমকে ৮ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দেবে না। কারণ, ওই বৈঠকে কংগ্রেস দলও অংশগ্রহণ করবে। ডিএমকে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবে না, তবুও বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলির উত্থাপিত দেশের কল্যাণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে আগের মতোই নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে থাকবে।” লোকসভার ডিএমকে-র আসনসংখ্যা ২২। তাদের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার লোকসভায় ‘ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতা’ এড়াতে পারবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
শুধু কংগ্রেস নয়, তামিলনাড়ুতে ভোটের পরে ‘ইন্ডিয়া’র সহযোগী দুই বাম দল, সিপিএম এবং সিপিআই আর দলিত সংগঠন ভিসিকে-ও স্ট্যালিনকে ছেড়ে বিজয়ের সঙ্গী হয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছে স্ট্যালিনের দল। ইতিহাস বলছে, ২০১৪-র লোকসভা ভোটের আগে হঠাৎই কংগ্রেসের সঙ্গ ছেড়েছিল ডিএমকে। এ বার একই কাজ করেছে রাহুল-খড়্গের দল। অতীতে বিজেপির সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে ডিএমকে। ফের তার এনডিএ-তে প্রত্যাবর্তন করতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। বুধবার স্ট্যালিনের পিতা তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত করুণানিধিকে তাঁর জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ডিএমকে-কে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন রাহুল। মনে করা হচ্ছিল, রাহুলের এই দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টায় সাড়া দেবেন স্ট্যালিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হল না। ডিএমকের অনুপস্থিতিতে বিজয়ের দলকে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার জল্পনা তৈরি হয়েছে বিরোধী জোটের অন্দরে।